1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে - JTV
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আলী নির্বাচিত পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কাজ করবে বিডি ক্লিন: মীর শাহে আলম মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে ইরানের হামলা আর্জেন্টিনা-স্পেনের মুখোমুখি পরিসংখ্যান কী, সবশেষ দেখায় জিতেছিল কোন দল? শেষের ম্যাজিকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণই সফলতার চাবিকাঠি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিশুদের অংশগ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে আবহাওয়া নিয়ে স্বস্তিতে ইংল্যান্ড প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন, মীর শাহে আলম বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কে কার মুখোমুখি, কোথায় কখন খেলা করব কাজ, গড়বো দেশ-সবার জন্য বাংলাদেশ: তারেক রহমান

নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৫৯ বার পঠিত

একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা

 

নীলফামারীর হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় অনুমোদন পায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।

তিনি বলেন, রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ১৯৭ জন নার্স এবং ১ হাজার ৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ সময়কালে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ চীনা অনুদান সহায়তা।

গত বছরের মার্চ মাসে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে দ্রুততার সঙ্গে চীন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় একটি ১০ তলা নতুন হাসপাতাল ভবন, একটি ১০ তলা অধ্যাপক ও সিনিয়র ডক্টর কোয়ার্টার ভবন, একটি ১০ তলা ডক্টরস ডরমেটরি ভবন, একটি ২ তলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স (ডিরেক্টরস বাংলো) ভবন, দুইটি ৬ তলা বিশিষ্ট নার্স ডরমেটরি ভবন এবং দুইটি ১০ তলা বিশিষ্ট কর্মচারী (২য় ও ৩য় শ্রেণী) কোয়ার্টার ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস, যার বড় অংশ গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এই জনসংখ্যার জন্য আনুমানিক ৪,৫০০–৬,০০০ শয্যা প্রয়োজন, অথচ বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কার্যকর শয্যা সংখ্যা জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

বিদ্যমান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শয্যা, বিশেষায়িত বিভাগ ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় গুরুতর রোগীদের রংপুর বা ঢাকায় যেতে হয়, যা সময়, ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ায়।

একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, মাতৃ ও নবজাতক জটিলতা এবং সংক্রামক রোগের বোঝা, যেগুলোর জন্য উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সার্জারি ও ইনটেনসিভ কেয়ারের প্রয়োজন। ফলে জেলার একটি বড় অংশের জনগণ প্রয়োজনীয় সময়মতো বিশেষায়িত ও জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলায় বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা মূলত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানে আইসিইউ, এইচডিইউ, ডায়ালাইসিস, পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট, নিউরো ইমার্জেন্সি, কার্ডিয়াক কেয়ার, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং বিশেষায়িত মাতৃ ও নবজাতক সেবার সক্ষমতা সীমিত। ফলে গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এ রেফার করতে হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV