1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, ঋণ খেলাপির শঙ্কা তিন ব্যবসায়ীদের - JTV
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মন্ত্রিসভায় আজ উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৩৪, জীবিত উদ্ধার ৮১৮৬ জন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ: মীর শাহে আলম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলেই মিলবে সমাধান নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা সোহাগ ‘গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে’ পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে জশনে জুলুস র‍্যালী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন মোহাম্মদ সোহাগ জাপানি ভাষা শিখে বিনা খরচে বিদেশে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের: মাহ্‌দী আমিন ইরান ও কানাডায় বড় পরীক্ষার মুখে ট্রাম্পের ‘শক্তির রাজনীতি’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন, সংবাদচর্চার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ সোহাগের’

গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, ঋণ খেলাপির শঙ্কা তিন ব্যবসায়ীদের

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫১ বার পঠিত

পাদনমুখী শিল্পে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, রপ্তানি ব্যাহত হওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের কর্মহীনতা এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার মতো নানা সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ তিন ব্যবসায়ী নেতা। তারা দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক নিট পোশাক কারখানা বর্তমানে স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানার উৎপাদন দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় কারখানাগুলোকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তারা একদিকে উৎপাদন ক্ষতি, অন্যদিকে আর্থিক লোকসানের দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন কিংবা বিমানযোগে (এয়ার শিপমেন্ট) পণ্য পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি এম সোলায়মান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মাধবদী, নরসিংদী, শেখেরচর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের অধিকাংশ তাঁত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ তাঁতি ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। একসময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় মিলগুলো সরবরাহ করলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টার্নওভার ট্যাক্সের সমালোচনা করে এম সোলায়মান বলেন, উৎপাদন সংকটের মধ্যেই ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। যেখানে লাভের পরিমাণ সীমিত, সেখানে ব্যাংক লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত কর ব্যবসা পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি সরকারের প্রতি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান এবং টার্নওভার ট্যাক্স পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের টেক্সটাইল, স্পিনিং ও তাঁত শিল্প ভয়াবহ ধসের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুরোপুরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদনই ব্যাহত করে না, বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এখনো দায়িত্ব গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, সরকার যদি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সরকার উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই শিল্প ও বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, দেশের রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একই সঙ্গে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, কর-সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV