পবিত্র খরমপুর দরবার শরীফে হযরত সৈয়দ আহমদ কাসিম (রহ.)-এর পবিত্র বার্ষিক উরস উপলক্ষে আজ ১৩ আগস্ট ভোর ৭টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দারুল ইশক হোসাইনিয়া খানকা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ, তাঁর পুত্র এবং আমানউল্লাহ মাস্তান সাহেবের পক্ষ থেকে এ আয়োজনের অংশ হিসেবে তাঁরা উরসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় হোসাইন মোহাম্মদ কোরবান মাস্তানসহ আরও বহু আশেকান-জাকেরান উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের পবিত্র পরিবেশে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে হযরত সৈয়দ আহমদ কাসিম (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং উপস্থিত সকলের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপদ জীবনের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়।

খরমপুর দরবার শরীফে পবিত্র উরস উপলক্ষে গত ১০ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি ও আয়োজন চলছে। আগামী ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উরসের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। উরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য আশেকান, ভক্ত ও জাকেরান দরবার শরীফে সমবেত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ আশেকান-জাকেরান ও ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহর ওলিদের দরবারে কোনো ধরনের বেআদবি করা যাবে না। সবাইকে সভ্যতা, শৃঙ্খলা, আদব ও ভক্তির সঙ্গে দরবারে আসতে হবে এবং পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ওলিদের দরবারে জিয়ারত করতে হলে যথাযথ আদব ও সম্মানের সঙ্গে জিয়ারত করা উচিত। আল্লাহর রহমত ও দয়ায় এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওসিলায় হযরত সৈয়দ আহমদ কাসিম (রহ.)-এর দরবারে জিয়ারতকারীদের জন্য কল্যাণ ও বরকত কামনা করা হয়।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, পবিত্র উরসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত আশেকান-জাকেরান ও ভক্তবৃন্দ যেন নিরাপদে তাঁদের নিজ নিজ গৃহে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
তিনি পবিত্র উরসকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে দরবারের সকল আশেকান-জাকেরান, ভক্তবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, পবিত্র খরমপুর দরবার শরীফের বার্ষিক উরসকে ঘিরে ইতোমধ্যে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৪ আগস্টের আখেরি মোনাজাতে বিপুলসংখ্যক আশেকান-জাকেরানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।