1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
কলকাতায় হোটেলে আগুন বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশি জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা - JTV
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মন্ত্রিসভায় আজ উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৩৪, জীবিত উদ্ধার ৮১৮৬ জন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ: মীর শাহে আলম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলেই মিলবে সমাধান নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা সোহাগ ‘গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে’ পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে জশনে জুলুস র‍্যালী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন মোহাম্মদ সোহাগ জাপানি ভাষা শিখে বিনা খরচে বিদেশে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের: মাহ্‌দী আমিন ইরান ও কানাডায় বড় পরীক্ষার মুখে ট্রাম্পের ‘শক্তির রাজনীতি’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন, সংবাদচর্চার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ সোহাগের’

কলকাতায় হোটেলে আগুন বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশি জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।

স্থানীয় সময় আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) মাঝরাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় হোটেলটিতে ২০-২৫ জন ছিলেন বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিরা।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশির সে সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখনও রাত ২টা বাজেনি। ঘুমিয়ে ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসাফুল জামাল। পাশের বিছানায় ছিলেন তার ভাই। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে যায় তাদের। জানালা খুলে নিচে তাকিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে সবাই চিৎকার করে বলছেন, ‘আগুন লেগেছে।’

কথাটি শোনার পরই ভাইকে নিয়ে হোটেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন আসাফুল। কিন্তু দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ঢুকে পড়ে ঘরে। নিচে নামার কোনো সুযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে তারা ছাদে উঠে যান। দমকলকর্মীরা আসার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন তারা।

কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এমনই আতঙ্কের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সেখানে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকরা।

গত শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে ওই ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছিলেন আসাফুল। ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার ভাই। মুকুন্দপুরের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসাও চলছিল।

মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়তে হয় তাদের।

আসাফুল বলেন, নিচে নামতে পারছিলাম না। কোনো রকমে ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে ওই তলার সবাই ছাদে উঠে যাই। আমরা ২০-২৫ জন ছিলাম। সবাই পানির ট্যাংকের কাছে চলে যাই। বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে আগুন আসতে পারে। তবে আমরা ঠিক করেছিলাম, আগুনের শিখা দেখতে পেলেই ট্যাংকের পানি নিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করব।

একই ভবনে আগুনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকার। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। থাকছিলেন ভবনের চতুর্থ তলার একটি হোটেলে।

রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাজমুল বলেন, একটা সময় মনে হয়েছিল মরেই যাব। অক্সিজেনের অভাব ছিল। শ্বাস নিতে পারছিলাম না।

নাজমুল আরও বলেন, হোটেলের কর্মচারীরা বারবার বলছিলেন ওপরে উঠতে। কিন্তু ওপরে ওঠার রাস্তা এতটাই সরু ছিল যে একজন করে উঠতে পারছিলেন। লোহার সিঁড়ি দিয়ে কোথা দিয়ে পালাব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না।

নাজমুলের ভাষ্য, নিচে নামার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। পুরো জায়গা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। এক হাত দূরেও কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনো রকমে ওপরে উঠি।

অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরও কর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যায়নি। এমনকি পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামও ছিল না বলে দাবি করেন তারা।

বাংলাদেশ থেকে সন্তানসহ সপরিবারে কলকাতায় গিয়েছিলেন কৌসর হোসেন। ভবনটির প্রথম তলার একটি হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

কৌসর বলেন, আগুন লেগেছে, প্রথমে জানতেই পারিনি। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হোটেলের কর্মীরা এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে আমাদের ডাকেন। এরপর হুড়োহুড়ি করে হোটেল থেকে বাইরে বের হয়ে আসি।

তবে বাইরে বের হওয়ার পর তার মনে পড়ে, হোটেলের কক্ষেই তাদের পাসপোর্ট রয়ে গেছে। পরে সেগুলো আনতে আবার হোটেলের ভেতরে ঢুকেছিলেন বলে জানান তিনি।

এদিকে নিউ মার্কেটের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV