1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
মব সন্ত্রাসের শিকার বহু শিক্ষক, ৪ জনের স্ট্রোক - JTV
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মন্ত্রিসভায় আজ উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৩৪, জীবিত উদ্ধার ৮১৮৬ জন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ: মীর শাহে আলম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলেই মিলবে সমাধান নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা সোহাগ ‘গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে’ পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে জশনে জুলুস র‍্যালী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন মোহাম্মদ সোহাগ জাপানি ভাষা শিখে বিনা খরচে বিদেশে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের: মাহ্‌দী আমিন ইরান ও কানাডায় বড় পরীক্ষার মুখে ট্রাম্পের ‘শক্তির রাজনীতি’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন, সংবাদচর্চার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ সোহাগের’

মব সন্ত্রাসের শিকার বহু শিক্ষক, ৪ জনের স্ট্রোক

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০১ বার পঠিত

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন মাসেই নজিরবিহীন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে শারীরিক ও মানসিক আঘাতে এ পর্যন্ত ছয়জন শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরো পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত ও অসুস্থ হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। কেউ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ছাড়া স্ট্রোক করেন অসংখ্য শিক্ষক।

তেমনই একজন হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত যুবক। তারা প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পদত্যাগের চাপ দিতে থাকে। এ সময় চেয়ারেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

মবের ঘটনাটি সদর্পে নিজের ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছিল মব বাহিনীর নেতা ফয়সাল মিয়া।

 

অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষক রেজাউল করিমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ভয়ের কারণে স্ট্রোক করেছেন ওই শিক্ষক।

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মবকারী ওই দলের নেতা ফয়সাল স্থানীয় রুস্তম আলীর ছেলে।

শিক্ষক আবুল কাসেম জানান, চাপ সইতে না পেরে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েন যে এখনো সুস্থ হতে পারেননি। ঘটনার পর পর মাধবপুর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ওই এলাকার মোড়লদের হাত করে ফয়সালের অভিভাবকরা ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির শুরু করেন বলে জানা গেছে।

এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আয়োজনে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেওয়া হয়।

একই ঘটনা দেখা গেছে কিশোরগঞ্জেও। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক মব শাসনের কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হন। কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের তার বিরুদ্ধে উসকে দেয় একটি চক্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ঘটনায় প্রকাশ্যে ইন্ধন দিয়েছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বাচ্চু, খণ্ডকালীন শিক্ষক জুনায়েদ হোসেন জুয়েল এবং স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মেহাদি হাসান শুভ। নেপথ্যে ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জামায়াতের সমর্থক। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য এহসানুল ইসলাম দিপুসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক সুযোগ বুঝে ছাত্রদের উসকে দেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সেদিন শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে আন্দোলনে নামানো হয় এবং বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে যুক্ত করে। পরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে যান এবং সেখানে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ ১৯টি অভিযোগ আনা হয় এবং ৩ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে ২৯ অক্টোবর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।

প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের কথা বিবেচনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেননি। তার দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়েই এই মব তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি আংশিক সুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে সীমিত দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মবের শিকার হন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে কোদালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন মৃধা। এ বিষয়ে তখনকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মূলত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র ছিল না। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে। তারপর দেখা যায় যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন বর্তমানে চাকরিতে রয়েছেন। একাধিকবার জানতে চাইলেও তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এখন আমি আর কোনো কথা বলতে চাই না।’

এই শিক্ষকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, সে সময় পদত্যাগে বাধ্য করায় তিনি চাপের মুখে স্ট্রোক করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV