1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, ঋণ খেলাপির শঙ্কা তিন ব্যবসায়ীদের - JTV
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২০ ইউনিট, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত, অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম পরাজিত শক্তির কালো টাকা দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী হুতিদের ‘বাড়াবাড়ি’, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী: রিজভী সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে এই কার্ড নেবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ

গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, ঋণ খেলাপির শঙ্কা তিন ব্যবসায়ীদের

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২৮ বার পঠিত

পাদনমুখী শিল্পে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, রপ্তানি ব্যাহত হওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের কর্মহীনতা এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার মতো নানা সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ তিন ব্যবসায়ী নেতা। তারা দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক নিট পোশাক কারখানা বর্তমানে স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানার উৎপাদন দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় কারখানাগুলোকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তারা একদিকে উৎপাদন ক্ষতি, অন্যদিকে আর্থিক লোকসানের দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন কিংবা বিমানযোগে (এয়ার শিপমেন্ট) পণ্য পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি এম সোলায়মান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের প্রায় ১৫০টি স্পিনিং মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মাধবদী, নরসিংদী, শেখেরচর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের অধিকাংশ তাঁত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ তাঁতি ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। একসময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় মিলগুলো সরবরাহ করলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টার্নওভার ট্যাক্সের সমালোচনা করে এম সোলায়মান বলেন, উৎপাদন সংকটের মধ্যেই ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। যেখানে লাভের পরিমাণ সীমিত, সেখানে ব্যাংক লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত কর ব্যবসা পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি সরকারের প্রতি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধান এবং টার্নওভার ট্যাক্স পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের টেক্সটাইল, স্পিনিং ও তাঁত শিল্প ভয়াবহ ধসের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুরোপুরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদনই ব্যাহত করে না, বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এখনো দায়িত্ব গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, সরকার যদি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সরকার উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই শিল্প ও বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, দেশের রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একই সঙ্গে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, কর-সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV