নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের বিরুদ্ধে আটা-ময়দার বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘সংবাদচর্চা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, বাস্তবতাবিবর্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মোহাম্মদ সোহাগ। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন এবং সামাজিকভাবে তাঁর মান-মর্যাদা হেয় করার উদ্দেশ্যেই তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এক প্রতিবাদলিপিতে সোহাগ বলেন, প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কোনো ক্রেতার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ বা ৩০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেননি এবং এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো নির্দেশও দেননি।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হলেও প্রতিবেদনে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার কাছ থেকে, কখন, কোথায় এবং কীভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন—তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, রসিদ, চালান বা লেনদেনের নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
সোহাগের প্রশ্ন, তিনি যদি কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই লেনদেনের প্রমাণ কোথায়? কে টাকা দিয়েছেন, কোন মিল থেকে দিয়েছেন এবং কোন চালানের মাধ্যমে দিয়েছেন—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। শুধু একজন ব্যবসায়ীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি অভিযোগের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহারের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহাগ। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পাঠকের কাছে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করা হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হয়। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোহাগ বলেন, নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা ব্যবসা বর্তমানে উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রমিক ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতিসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি জানান, নিতাইগঞ্জের মিল মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা, পণ্য লোড-আনলোডের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়সহ ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কাজ করছেন।
আটা-ময়দার বাজারদর প্রসঙ্গে সোহাগ বলেন, গমের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর, আমদানি ব্যয়, পরিবহন, শ্রমিক খরচ ও উৎপাদন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম বাড়লেই সেটিকে কোনো ব্যক্তির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
তিনি বলেন, বাজারদর বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে সোহাগ বলেন, সংবাদ প্রকাশের নামে কোনো ব্যক্তির সামাজিক ও ব্যবসায়িক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নন; বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে। তবে কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করা হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।
এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মোহাম্মদ সোহাগ। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোহাগ বলেন, তাঁর সম্মানহানি হয়েছে এবং বিষয়টি তিনি হালকাভাবে দেখছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ ছাড়া তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশের দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাঁর বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং তাঁর বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।