নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অপহরণ মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এম. সাইফুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
মামলার অভিযোগপত্র নম্বর ৩১৮। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। বাদী পক্ষের অভিযোগপত্রের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকায় এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
তোলারাম কলেজের সামনে থেকে অপহরণ
মামলার এজাহার ও তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকার একটি ফেরিঘাটের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার নম্বর ১২(০৬)২৫। মামলাটি করা হয় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায়।
তদন্তে যা উঠে এসেছে
তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে বিভিন্ন আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগাযোগ করে ঘটনার পরিকল্পনা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত যানবাহন, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উল্লেখ
চার্জশিটে বলা হয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
• মো. আল আমিন শেখ ওরফে জিতু
• মো. কবির হালদার
• লতিফ সিদ্দিকী রতন
• সাব্বির আহমেদ
• ইরান হোসেন মোহন
• মো. সাকিব হোসেন
• মো. ছাহাদ গণ
এ ছাড়া তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
‘আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি’: মোহাম্মদ সোহাগ
আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ভুক্তভোগী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগ বলেন,
“আমি মনে করি আইনের বিচার ও ন্যায়বিচার হবে। চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন । আমি প্রত্যাশা করি, আদালতের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।”
বিচারের পথে মামলা
মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ অপহরণের ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
অভিযোগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করল। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য
• ভুক্তভোগী: আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ
• বাদী: তানিয়া আহম্মেদ
• মামলা নম্বর: ১২(০৬)২৫
• থানা: ফতুল্লা মডেল থানা, নারায়ণগঞ্জ
• ধারা: ৩৬৪/৩৪ দণ্ডবিধি
• ঘটনার তারিখ: ১ জুন ২০২৫
• উদ্ধার: ২ জুন ২০২৫, পায়রা বন্দর এলাকা, পটুয়াখালী
• অভিযোগপত্র নম্বর: ৩১৮