ঢাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত কাউকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্যভেদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে আশাবাদী পুলিশ।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, হত্যা রহস্য বের করতে ৬০ জনের বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কাউকে ডেকে কথা বলেছি। কারও সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে তথ্য নেওয়া হয়েছে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা– এমন প্রশ্নে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার কারণ সম্পর্কে একটি ধারণা আমরা পেয়েছি। এখনও মোটিভ পাইনি বললে ভুল হবে। কয়েকজনকে ধরতে পারলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। আমাদের টিম বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। এখন পর্যন্ত আমাদের মনে হয়েছে, জড়িতরা কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক।’
মুছাব্বির হত্যায় সন্দেহভাজন শুটার জিনাত, পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি দল গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কাউকে গ্রেপ্তারের কথা আমাদের জানা নেই। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও কাজ করছে।’
এদিকে ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান চলমান।
রাজধানীর তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরীবাজার এলাকায় গত বুধবার রাতে স্টার কাবাব হোটেলের পেছনের গলিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মুছাব্বির নিহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। মাসুদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন একসময়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে গেছেন। মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার।
পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলের আশপাশে চার সন্দেহভাজনকে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে একজন মুছাব্বিরকে গুলি করে। ঘটনার অন্তত ২৫ মিনিট আগে স্টার কাবাব হোটেলের পাশের গলিতে যায় জড়িতরা। আগে থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছিল।
এদিকে, আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে গতকাল চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, খাগড়াছড়ি, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। সমাবেশে বক্তারা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা
নিতে হবে।