1. admin@jtv.news : admin :
কঠোর ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের, এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল - JTV
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের ইফতারে ব্যবসায়ী-রাজনীতিক-প্রশাসনের মিলনমেলা রমজানের মাগফিরাত পেরিয়ে নাজাতের পথে: নিরাপদ ঈদযাত্রা ও বিশ্বশান্তির জন্য দোয়ার আহ্বান, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইরানের মিত্ররা কোথায়? কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে প্রণয় ভার্মার বৈঠক রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ এমপি মিলনের ইরানের হামলায় আহত দুই প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না, ঘোষণা ইরানের ঈদে ছুটি টানা ৭ দিন শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ৬ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ২১০ ফ্লাইট বাতিল, জানাল শাহজালাল বিমানবন্দর পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদাবাজদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণভোট নিয়ে হাইকোর্টের রুল: জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ কী?

কঠোর ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের, এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৪ বার পঠিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী ও দুই হাজার ৫০০ বিশেষায়িত কর্মী রয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ কারণে। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতাই তুলে ধরে। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, তাদের সময়ে ২৫ লাখের বেশি স্বেচ্ছা প্রস্থান ও বহিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা তারা ‘রেকর্ড সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে।
তবে এসব বহিষ্কারের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

একই সঙ্গে ভিসা প্রদানের নীতিও আরও কঠোর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং আবেদনকারীদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এসব অপরাধীকে বহিষ্কার অব্যাহত রাখব।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা বাতিলের চারটি প্রধান কারণ হলো—ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র দপ্তর ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক যেন আইন মেনে চলে এবং যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি, তাদের ভিসা দ্রুত বাতিল করা যায়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেসব ভিসা আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মনে করা হতে পারে, তাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে।

গত নভেম্বরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্পের শপথগ্রহণের পর থেকে প্রায় ৮০ হাজার অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধী বহিষ্কার কর্মসূচি’ পরিচালনা করবেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতিতে অপরাধী ও নিরপরাধ—উভয়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। এমনকি ভিন্নমত পোষণকারী ভিসাধারীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের মার্চে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এর মধ্যে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক কেবল ক্যাম্পাস পত্রিকায় একটি সম্পাদকীয় লেখার কারণেই ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অক্টোবরে আরও ছয়জন বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে ‘উদযাপন’ করার অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, ‘যারা আমেরিকানদের মৃত্যুকামনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের আশ্রয় দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

তবে এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—বিশেষ করে প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সহিংসতা নিয়েও দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড নিজের গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV