রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেড় লাখের বেশি মামলা দেওয়া হয়, ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তাদের ঘর-বাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে বছরের পর বছর।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন: তাদের প্রতি আগামীদিনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকারের অবশ্যই অনেক দায় ও দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামীদিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। তারপরও বলতে কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতো রাষ্ট্রীয় সহায়তার হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি অনুরোধ করব আপনারা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, সেই প্রতিটি মানুষকে সজাগ থাকার জন্য। যারা বিভিন্ন উসিলায় বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন; তারা যাতে সফল না হয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, ন্যায়বিচার পেতে বাংলাদেশে আগামীদিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। যেই সরকার যারা নির্যাতিত হয়েছে অত্যাচারিত হয়েছে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে। আসুন আমরা আজকে সেই শপথ গ্রহণ করি। আপনাদের আজকে এখানে আসা যেন বৃথা না যায়। আরো যারা শহীদ পরিবার আছেন, আপনাদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে; সেই অন্যায়ের বিচার যাতে হতে পারে। আপনারা যাতে ন্যায্যতা পেতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করি। আমরা ধৈর্য ধারণ করি। আমরা যেন সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যা শুরু হয়েছে তাতে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।