নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও মীম-শরৎ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের হুমকিতে জীবনশঙ্কায় রয়েছেন।অপহরণের ঘটনার ছয় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। বরং অপহরণকারীরা জামিনে বেরিয়ে এসে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগের ফের বড় ধরনের ক্ষতিসাধনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। ফলে নিজের জীবন ও ব্যবসারপ্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে বিষয়টি উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন তিনি।
ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ জানান, গত বছরের ১ জুন রাত ১১টার দিকে তিনি নিতাইগঞ্জের অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন। তার গাড়িটি তোলারাম কলেজ গেটের সামনে আসলে ৫-৬ জনের একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ির গতিরোধ করে গাড়িতে উঠে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় তাকে মারধর করে গাড়ি চালিয়ে পটুয়াখালী আসে।
অপহরণের ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলে পুলিশ তৎপর হলে অপহরণকারীরা বেকায়দায় পড়ে। ০২ জুন সকালে অপহরণকারীরা তাকে পটুয়াখালীর পায়রাগঞ্জ ফেরীঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর বালির মাঠে গাড়িসহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ডিবি, সদর থানা ও নৌপুলিশ তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ওই ঘটনায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগের স্ত্রী তানিয়া আহমেদ একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মো. সাকিব হোসেন, মো. কবির হালদার, মো. ছাহাদ ও ইমরান হোসেন মোহনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা আদালতে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তবে প্রধান আসামি আলআমিন ওরফে জিতু রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার আসামিরাও আদালত হতে একপর্যায়ে জামিন পান।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ আরো জানান, প্রধান আসামি আলআমিন ওরফে জিতুর নির্দেশে অন্য আসামিরা তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশ, সম্মানহানি ও ব্যবসায়িক ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে প্রধান আসামি জিতু তাকে মোবাইল ফোনে কল-মেসেজ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ছবি এডিটের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও মীম-শরৎ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, অপহরণে অংশ নেয়া আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলো। আমি তাদের যথাযথ শাস্তি আশা করেছিলাম কিন্তু সম্প্রতি তারা বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। ফের তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি মানসিকভাবে ভীষণ উদ্বিগ্ন। আমি সরকারকে বড় অঙ্কের কর-ভ্যাট দিই। আমার প্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করেন। এভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে স্বাভাবিক ব্যবসা বজায় রাখা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। আশা করি, জেলার পুলিশ সুপারসহ দায়িত্বশীল অন্যরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে উদ্যোগী হবেন।