স্বনামধন্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করার আগ মুহূর্তের আসামিদের শপথ করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা তদন্তে পুলিশের কাছে বেরিয়ে আসে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের প্রতিষ্ঠানের কর্মরত দুই কর্মকর্তা এবং অপহরণকারী চক্রের সদস্য লতিফ সিদ্দিকী রতন ও সাব্বির কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, অপহরণের পুরো পরিকল্পনায় তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
তবে মামলার প্রধান আসামি আল আমিন ওরফে জিতু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

২০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ মীম শরৎ গ্রুপের দুই কর্মকর্তা রতন ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করে। এই রতন ও সাব্বির ২০২৫ সালের পহেলা জুন ২০২৫ তারিখে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে অপহরণের পর। আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ কে উদ্ধারে তার পরিবার, সজন ও পুলিশ প্রশাসন যখন তৎপর তখন উদ্ধারকাজে কাছে ছিলেন এই রতন ও সাব্বির। ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অপহরণ হতে যাচ্ছে, কাদের নেতৃত্বে অপহরণ হচ্ছে তা জানতেন। এই দুই অপহরণকারী রতন ও সাব্বির। অথচ জেনেও ব্যবসায়ী সোহাগ কে উদ্ধারে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া
অভিযোগ রয়েছে, চার আসামি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে এসে জিতুর সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ ও তাঁর পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
এদিকে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহরণ পরিকল্পনার ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গতিবিধি সরবরাহ করেছিল ভুক্তভোগীর অত্যন্ত কাছের দুই অফিস স্টাফ—রতন ও সাব্বির। তারা মীম শরৎ গ্রুপে কর্মরত ছিলেন এবং ভুক্তভোগীর দৈনন্দিন চলাচল ও সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অপহরণকারীদের কাছে পৌঁছে দেন বলে পুলিশের ধারণা।
সর্বশেষ পুলিশ অভিযান চালিয়ে রতন ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ পরিকল্পনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ জানিয়েছেন, একের পর এক হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায়। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পোদ্যোক্তা ও চেম্বার পরিচালক হিসেবে তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
তিনি অপহরণ মামলার মূলহোতা জিতুকে দ্রুত গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত চার আসামির জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠানো এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া জামিনের শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এ ধরনের ঘটনায় জামিন বাতিলের আইনি ভিত্তি রয়েছে।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হুমকির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য জিডি ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোসাঃ তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১২(০৬)২৫, ধারা–৩৬৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।
মামলার তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে ২ নম্বর আসামি মোঃ সাকিব হোসেন, ৩ নম্বর আসামি মোঃ কবির হালদার, ৪ নম্বর আসামি মোঃ ছাহাদ এবং ৫ নম্বর আসামি ইমরান হোসেন মোহনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ১ নম্বর আসামি আল আমিন ওরফে জিতুকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকার করেন।