ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট চাইলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের কাছে ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মালেকের পক্ষে ভোট চান।
এসময় তিনি বলেন, ‘আপনাদের মেয়ের সম্মান রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। আর সেই সম্মান তখনই নিশ্চিত হবে, যখন এখানে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে।
বুধবার রাতে সিলেট সফরে এসে সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবায়দা রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলামের বিরাইমপুরের শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে রাত ১টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি।
তার আগে থেকেই ‘সিলেটের দুলাভাইয়ে’র অপেক্ষায় সেখানে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। মানুষের জট ঠেলে বাড়ির বারান্দায় পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে বারান্দায় ছোট টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘বহুদিন পর, বহু বছর পর আপনাদের এলাকার সন্তান ডা. জোবায়দা রহমান এবং আমি বাড়িতে এসেছি। আজ আপনাদের মেয়ে যখন এসেছে, তখন তার সম্মান আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে। আপনাদের মেয়ের সম্মান রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। আর সেই সম্মান তখনই নিশ্চিত হবে, যখন এখানে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে।’
তিনি উপস্থিত জনতার কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই এলাকা থেকে, বিরাইমপুর থেকে ও দক্ষিণ সুরমা থেকে ধানের শীষ মার্কাকে জয়যুক্ত করতে পারবেন কিনা?’ তাঁর এ প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত জনতা সমস্বরে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার আশ্বাস দেন।’
নিজেকে এলাকার সন্তান দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘জুবায়দা যেমন আপনাদের সন্তান। এখন আমিও কিন্তু আপনাদের সন্তান। কাজেই এই পরিবারের সদস্য হিসেবে আমিও এই এলাকার সন্তান। কাজেই আমারও এখানে দাবি রয়ে গেল।’ কি সেই দাবির প্রশ্ন রেখে তিনি উত্তরে বলেন, ‘১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে আবারো।
বিরাইমপুর থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত, হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে এই বিরাইমপুর তথা দক্ষিণ সুরমার মাটি থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে দলের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম আল্লাহর রহমতে এখান থেকে আমরা ইনশাল্লাহ শুরু করলাম।’ তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘এখানে যত মুরব্বি আছেন, এলাকাবাসী ভাই-বোনেরা আছেন, আপনাদের সবার দোয়া নিয়ে, আল্লাহর রহমতে এখান থেকে ধানের শীষের প্রচার কাজ আমরা শুরু করলাম আজকে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যাতে আল্লাহর রহমতে ধানের শীষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়যুক্ত হয় এবং আপনারা আমাদের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ যে সকল প্রতিশ্রুতি দেশের মানুষের কাছে দিয়েছি। আল্লাহ যেন আমাদের রহমত দেন, এই কাজগুলো যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক। কারণ আমরা দেখেছি গত গোটা ১৬ বছর কিভাবে স্বৈরাচারের সময় এই দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কিভাবে বছরের পর বছর মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘প্রিয় এলাকাবাসী আপনাদের কাছ থেকে জবান নিয়ে গেলাম যে ইনশাল্লাহ আপনারা জয়যুক্ত করবেন ধানের শীষকে? উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলেন-‘ইনশাল্লাহ।’ তিনিও ইনশাল্লাহ বলে বিদায় নেন তাদের কাছ থেকে।
বক্তব্য শেষে সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাগফেরাত কামনায় এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে শিরনী বিতরণ করা হয়। পরে তারেক রহমান নগরের বিমানবন্দর এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি রাত্রীযাপন করবেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ১৩০ জন অরাজনৈতিক তরুণদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সমাবেশস্থল সিলেট আলীয়া মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। সেখানে ভাষণ দেবেন তিনি। পরে সেখান থেকে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। বেলা ১টা থেকে ২টার মধ্যে তিনি সেখানে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাসির রহমান বলেন, ‘১টা থেকে ২টার মধ্যে দলের চেয়ারম্যান এসে পৌঁছাবেন বলে আশা করছি। সমাবেশে লাখের অধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।’
মৌলভীবাজারের সমাবেশ শেষ করে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা সংলগ্ন মাঠে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানেও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।