নাগরিক টিভি নামে ইউটিউব এবং ফেইসবুকে নিয়মিত লেখালেখি করেন নাজমুস সাকিব।
গত ৬ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পুলিশের বিশেষ শাখার এসবি প্রধান গোলাম রসুলের ছোট ভাইক মাসুদকে নিয়ে সাবেক একজন মন্ত্রীর ছবি দিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন নেটিজেনরা। নাজমুস সাকিবের কমেন্ট বক্সে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী আনিসুজ্জামান কাজল লিখেন,
ছবি উঠানো দিয়ে বিচার করলে তো প্রতিটি মানুষেরই কোনো না কোনো প্রভাবশালী বা সেলিব্রিটিদের সাথে কিছু না কিছু ছবি তুলে পোস্ট করা রয়েছে । হতে পারে বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার হতে পারে সামাজিক অনুষ্ঠানে বা কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ছবিতে।

আহমেদুর রাশেদ আতিউল লিখেছেন,ভাই না জেনে শুনে কারো সম্পর্কে কথা বলা ঠিক না। মাসুদ সম্পর্কে যা বলেছেন সবই কল্পনা প্রসূত। মাসুদের বাবা মুন্সিগঞ্জের স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী ছিলেন, যেটার হাল ধরেছিলেন মাসুদের মেঝ ভাই মরহুম হাসান বশীর ভাই। যাকে বশীর নামে সবাই চিনত। মাসুদ তখন বাংলালিংকে চাকুরী করত। বশীর ভাই মারা যাওয়ায় অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাসুদকে পারিবারিক ব্যাবসার হাল ধরতে হয়। মাসুদ বাংলালিংকে চাকুরী করার সময় নিজের পাশের মহল্লায় বিয়ে করে নসরুল হামিদ বিপুর বড় মামার মেয়েকে। মাসুদ যখন বিয়ে করে বিপু তখন এমপি হইছে কি না জানি না। বিপু সাহেব তার বড় মামাকে অনেক সম্মান করত এবং বিপু সাহেবের মা মাসুদ ও তার স্ত্রীকে আপন সন্তানের মতো আদর করতো। আর গোলাম রসুল ভাইকে তো বিগত বছরগুলোতে পদোন্নতি দেওয়া হয় নাই, বিরোধী দলের লেোক বলে, ডিবি হারুন, এসবি মনিরুল, হাবিব এরা সবাই গোলাম রসুল ভাইয়ের জুনিয়র ছিলো। সিনিয়র বাদ দিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়, যোগ্যতা থাকার পরে ও সরকার বিরোধী লোক বলে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় নাই। যাইহোক কারো সম্পর্কে না জেনে কারো প্ররোচনায় পরে লেখা ঠিক না। যা আমি যা বলেছি তাতে অনেকে আমার সাথে একমত না ও হতে পারেন, ভুল হলে মাফ করবেন প্লিজ।

এ ব্যাপারে এ ব্যাপারে মইনুদ্দিন মাসুদ সাথে কথা হলে তিনি জানান, ফেসবুকে যেটা লিখেছে আমার সাথে এরকম কোন এজেন্সির ব্যবসা নেই, এবং আমার কোন ট্রাভেল এজেন্সিও নেই। এসবি প্রধান হিসেবে আমার ভাই এক বছরের উপরে দায়িত্ব ছিলেন পরবর্তীতে সততার কারণে পদোন্নতি লাভের পাশাপাশি ছয় মাস চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়। এই গত ১৬ এবং ১৮ মাসে আমার কোন তদবির বা সুপারিশ নিয়ে যাই নাই। ভাই হিসেবে আমি আমার বড় ভাইয়ের ব্যাপারে যতটুকু জানি তিনি একজন সৎ এবং মেধাবী মানুষ। তিনি কারো তদবির শোনে না। দেশের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে যৌক্তিক বিষয়ে প্রাধান্য দেন। আপনারা বাংলাদেশের পুলিশের সাথে তথ্য নিয়ে জানতে পারবেন গত ১৭ বছর উনি বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কোনভাবেই পোস্টিং পায়নি। সৎ এবং যোগ্য অফিসার ফ্যাসিস্ট আমলে তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তিনি সুনামের সাথে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছে। এখানে কোন অনৈতিক কাজ করার কোন সুযোগ নেই।
সুতরাং আমাকে নিয়ে যে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এটা ও বিবেচনা প্রসূত কথা । এরকম আমার বিরুদ্ধে কোত্থেকে কিভাবে এইরকম মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য আসছে এটা আমার জানা নেই। আমি আশা করব এই ধরনের অপপ্রচার প্রোপাগান্ডা থেকে আমি সহ আমার পরিবারকে বোলিং যাতে না করা হয় এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
মইনুদ্দিন মাসুদ আরো বলেন, আমর সম্পর্কে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর, এবং তা তাল্পণিক ও কুদৃশ্যপণিক। ব্যক্তিগতভাবে এতে আমার সম্মানহানি ঘটেছে। আমি আশা করি, যিনি এই বিষয়টি লিখেছেন তিনি এটি গভীরভাবে অনুধাবন করবেন। আমার অনুরোধ, যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ বা তথ্য প্রকাশের আগে প্রকৃত সত্য নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য যে:
সবাই জানে,১৯৬০ সাল থেকে মইনুদ্দিন মাসুদ এবং গোলাম রসুলের পিতা ফ্লাওয়ার মিল ও অটো রাইস মিলের ব্যবসায় সফলভাবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে, ১৯৮৫ সাল থেকে তারা প্লাস্টিকের রশি উৎপাদন শুরু করেন। তাদের উৎপাদিত কৃষি ফিল্টার নেট বা প্লাস্টিক নেট ইন্ডিয়ায় রপ্তানি করা হয় এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স আনা হয়। এই অর্থ সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।