একটি দিন আমরা সবাই আবার একত্রিত হব—
আল্লাহ তাআলার পবিত্র দরবারে।
পরিপূর্ণ তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে মহব্বত করে,
তাঁর কুদরতি দরবারে সেজদায় অবনত হব এবং তাঁর গুণকীর্তনে নিজেদের জীবন সজ্জিত করব।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফের মাধ্যমে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে নিয়ে যান—আমিন।
ভাইয়েরা ও বাবারা,
আমরা অনেক আলোচনা শুনি, অনেক নসিহত গ্রহণ করি। আলোচনা শুনতেই থাকব—এটা ভালো।
কিন্তু সমস্যা কোথায়?
সমস্যা হচ্ছে—বাস্তবায়নের সময়।

যখন আমল করার কথা আসে, তখনই নানা রকম বাধা, অজুহাত আর আপত্তি সামনে এসে দাঁড়ায়—ঠিক কি না?
আমরা সবাই জানি, সুদ খাওয়া হারাম।
কিন্তু সুদের বিষয়ে আলোচনা হলে, যদি আমরা নিজেরাই সুদের সঙ্গে জড়িত থাকি—
তখন আমাদের মাথা কাজ করে কীভাবে কোনো ‘ মাসলা মাসায়েল’ বের করা যায়,
যেন হারামটা নিজের পক্ষে নেওয়া যায়—ঠিক কি না?
আবার আমরা জানি, গীবত হারাম।
মানুষের পরনিন্দা করা, পরদর্শিতা করা মহাপাপ।
হাদিসে এসেছে—গীবতকারী যেন নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাচ্ছে।
এই কথা আমরা জানি, শুনি, বুঝি—
তারপরও প্রতিদিন সেই কাতারেই পড়ে যাই—ঠিক কি না?
ভাইয়েরা,
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে, কালে কালে রসূল পাঠিয়েছেন।
রসূলুল্লাহ ﷺ-এর পর আল্লাহ পাঠিয়েছেন ওলিয়ে কামেলীন হযরতগণকে—
একটি মাত্র উদ্দেশ্যে:
আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর দেখানো পথ ও মতকে প্রতিষ্ঠা করা।
এই সহিহ আলোচনা, এই সঠিক দিশা—
ওলিয়ে কামেলীনদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
তাঁদের নেক নজর, তাঁদের সাহচর্য ও তাঁদের দেখানো পথেই
আজ পর্যন্ত আমরা সিরাতে মুস্তাকিমের দিশা পাচ্ছি।

ওলিয়ে কামেলীনরা যদি আমাদের এই শিক্ষা না দিতেন,
আল্লাহর নেক বান্দারা যদি আমাদের পথ না দেখাতেন—
তাহলে হয়তো আমরা এতদিন সঠিক পথে টিকে থাকতে পারতাম না।
এই কারণেই রসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসে এসেছে—
সৎ ও হালাল ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও ওলি আল্লাহদের সঙ্গে থাকবে।
আপনারা এই হাদিস জানেন—ঠিক কি না?
এই জন্যই নবীজি ﷺ আমাদের শুধু নামাজ-রোজাই নয়,
হালাল রুজির শিক্ষা দিয়েছেন।
ব্যবসা, চাকরি, পেশা—সবকিছু আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর দেখানো পথে হতে হবে।
কিন্তু বাস্তবতা কী?
আমরা চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য—সবক্ষেত্রেই
হারাম, ভেজাল, জুলুম আর অন্যায়ে লিপ্ত হয়ে পড়েছি।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আমি ছাড় দেই, কিন্তু ছেড়ে দেই না।”
আজ আমরা দেখছি—
যারা বছরের পর বছর জুলুম করেছে,
ফিলিস্তিনসহ নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে—
তাদের গোপন অপকর্ম একে একে প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে।
যাদের আমরা আইডল ভাবতাম, বিশ্বমোড়ল মনে করতাম—
তাদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে।
এটা আল্লাহর কুদরত ছাড়া আর কিছুই না।
ভাইয়েরা,
আজ মুসলমান সমাজে এমন অনেক কালচার ঢুকে গেছে
যেগুলো ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না।
জাহেলিয়াতের যুগে এসব অপকর্ম ছিল,
রসূলুল্লাহ ﷺ এসে আল্লাহর হুকুমে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন।
সুতরাং আজ স্বার্থের জন্য, দল-মতের জন্য,
কোনো হারাম কাজকে জায়েজ বলা যাবে না।
ভেবে দেখুন—
আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন,
খানকার শরীফে এনেছেন,
জিকির, ওযিফা, দোয়ার মজলিসে বসার তাওফিক দিয়েছেন।
এটা কি কম নেয়ামত?
আল্লাহ চাইলে আমাদের কপালে এটা নাও লিখতে পারতেন।
তখন আমরা কেউই আজ এখানে থাকতাম না—ঠিক কি না?
আজ খারাপ হওয়ার জন্য আলাদা কিছু লাগে না—
একটা মোবাইলই যথেষ্ট।
এই জন্যই দরবার, খানকা, নেক সঙ্গ দরকার।
কারণ যারা আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে কানেকশনে থাকে—
তারা গুনাহ থেকে বাঁচে।
যেখানে আল্লাহ নেই—
সেখানে কোনো রহমত নেই, কোনো বরকত নেই, কোনো ফায়েজ নেই।
ভাইয়েরা, বাবারা,
লাইলাতুল বরাত চলে গেছে,
লাইলাতুল কদর সামনে,
পবিত্র রমজান দরজায় কড়া নাড়ছে।
এই রমজানে আমাদের দায়িত্ব—
নিজের রোজা,
নিজের আমল,
আর আমাদের আশপাশের মানুষ।
প্রতিবেশী ঠিকমতো সেহরি-ইফতার করতে পারছে কি না—
এটা আমাদের দায়িত্ব।
নতুন জামা নয়—পেট ভরে খাবারই আসল।
রমজান মাস তিন ভাগে বিভক্ত—
প্রথম দশ দিন: রহমত
দ্বিতীয় দশ দিন: মাগফিরাত
শেষ দশ দিন: নাজাত
এরপর রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন সেই সুন্দর দোয়া—
“হে আল্লাহ, আমাদের রজব থেকে শাবান, শাবান থেকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”
কেন এই দোয়া?
কারণ এখান থেকেই তোমার টাইমলাইন শুরু।
এখন ট্র্যাকে হাঁটতে হবে।
থামার সুযোগ নেই।
ভাইয়েরা,
মানুষ জন্ম থেকে কবর পর্যন্ত সম্পদের পেছনে দৌড়ায়।
কিন্তু কবরের পরে—শুধু আমল।
তুমি কী নিয়ে গেলে—সেটাই প্রশ্ন।
রমজানে দাম বাড়ানো,
ভেজাল মেশানো,
কৃত্রিম সংকট তৈরি করা—
এসব করে উম্মাহর হক নষ্ট করলে,
জান্নাত নয়—জাহান্নামের ভয় আছে।
আল্লাহ ধরলে—আজ হোক, ৬০ বছর পরে হোক—
ছাড়বেন না।
কাল সকালে ঘুম থেকে উঠব—এর কোনো গ্যারান্টি নেই।
এই জন্যই এখনই তওবার সময়।
আল্লাহ বলেন—
আমি তওবাকারীকে ভালোবাসি। বারবার তওবা করো—আমি মাফ করে দেব।
সুতরাং ভাইয়েরা, বাবারা,
এখনই সংশোধনের সময়।
আমি যদি আল্লাহর হয়ে যাই—আল্লাহ আমার হয়ে যাবেন।
আমি যদি রসূলুল্লাহ ﷺ-এর হয়ে যাই—রসূলুল্লাহ ﷺ আমার হয়ে যাবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দিন—আমিন।
প্রতি সপ্তাহের ন্যায় ০৫-০২-২০২৬ইং রোজ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফে বয়ান পেশ করার সময় এসব কথা বলেন!
———-আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ,
(প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফ এবং চেয়ারম্যান মীম শরৎ গ্রুপ)