হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারকে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাক আটকের প্রতিবাদে রবিবার বেলা দুইটায় বাহুবল উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিরপুরে মিছিল ও পথসভা করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় অর্ধঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আগামী ২৪ ঘণ্টা মধ্যে তোষার চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি শামছুল আলম, এনামুল হক এনাম, সিরাজুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।
জানা যায়, রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ (গোয়েন্দা পুলিশ) আটক করে। তাকে আটককালে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বাহুবল থানার পুলিশও ছিল বলে জানা গেছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকির ঘটনায় বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
একটি সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামেগ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া ২০১৯ সেশনের কমিটিতে ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতা গ্রেপ্তার করা মাসু্ক মিয়াকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার মোবাইল ফোনে ওসিকে হুমকি ও গালিগালাজ করার একটি কলরেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে বলেন, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। তিনি বলেন, মাসুক মিয়া ২০১৯ সেশনে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ওসি মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করে আত্মসাৎ সহ মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। বিষয়গুলো নিয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে অবগত করেছেন বলে জানান।