যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক ‘ঠিকানা’র সিইও সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন বলেছেন, নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশি এনজিও কতটা কাজ করতে পারে তা আমি দেখেছি। এবারের যাত্রায় আমি দেখেছি, ভালো সেন্টার বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া, মানুষের কাজকর্মে অভাব, খাবার থেকে শুরু করে নিউইয়র্কে অনেক কাজ করে। সেভাবে ভালো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি আজকে দেখতে আসছি, ভালো সেন্টার বাংলাদেশেও বন্যার সময় কাজ করেছে, সাথে আমাদের ঠিকানা ছিল।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর নিমতলায় ভালো সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। ভালো সেন্টার বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাজিব,যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল টেলিকম কোম্পানি রিভারটেল ও ঠিকানার প্রধান উপদেষ্টা রুহিন হোসাইন, ভালো সেন্টার বাংলাদেশের ম্যানেজার মুকলেসুর রহমান ভুট্টু, এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী প্রমুখ।

পরে তারা ভালো সেন্টারে রমজান মাসব্যাপী ইফতার বিতরণী কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ১২০০ দুস্থদের মাঝে খাবার তুলে দেন।

খালেদ মহিউদ্দিন আরো বলেন, এখন ভালো রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতার বিতরণ করে এবং অনেকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজটা করে। তারা এখানকার স্যানিটেশন, হেলথ এবং হাইজিনিক—এই দুটি ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষ যাতে সুবিধা পান, সেটার ব্যবস্থা করেছে। বরিশালেও তারা এই শাখা উদ্বোধন করার চেষ্টা করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভালোর সঙ্গে আছি। ভালোর এসব কাজ আমাকে খুবই উদ্বুদ্ধ করে। বিশেষ করে যখন দেখি নিউইয়র্কের রাস্তায় কেউ একজন বাংলাদেশি এনজিও থেকে সাহায্য পাচ্ছে, খুশি হয়ে যাচ্ছে। তখন আমার অনেক গর্ব হয়।

ভালো সেন্টারের নারায়ণগঞ্জ শাখার প্রেসিডেন্ট তাইজুল ইসলাম রাজিব বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার রহমানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। উনার উদ্যোগে এবং প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির সহযোগিতায় আমাদের ভালো সেন্টার তৈরি আর ভালো সেন্টার বাংলাদেশে কাজ করছে। আমরা মানুষের চিকিৎসা, নারীদের গর্ভকালীন ও শিশুদের চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করার চেষ্টা করি। স্থানীয় গরিব মানুষ ও দিনমজুরদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত সেলুন ও টয়লেটের ব্যবস্থা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে আমাদের ফুড সার্ভিস দিচ্ছি। আমাদের কাছে কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করি। যেটা শারীরিক বা কারো ঘর ভেঙে গেছে—এ ধরনের সমস্যা থাকলে দেখে বুঝে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। বিগত তিন বছর ধরে প্রতি রমজান মাসে এক থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ১২০০ লোকের ইফতারি বিতরণ করছি। আমাদের এই উদ্যোগ পরিদর্শন করতেই খালেদ ভাই এখানে এসেছিলেন। ঠিকানা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমরা এর আগেও মিলে সিলেট, নোয়াখালীতে বন্যার্তদের জন্য কাজ করেছি। ভবিষ্যতে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
