ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়। প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি। তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা, চলছে আস্থা অর্জনে হিসাব নিকাশ। শপথের পর থেকেই প্রত্যাশা পূরণে সক্রিয় সরকার। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অগ্রাধিকারে থাকছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিতে সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জনসেবা সহজীকরণ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গত ১৬ বছর ১৭ বছর যে ক্ষমতায় ছিল। বাপেক্সকে একটিভেট করে নাই। বাপেক্সকে নিয়ে কোনো অনুসন্ধান করে নাই। ফলে গ্যাস আজকে পাইপলাইনে শূন্য হয়ে যাচ্ছে। কুইক রেন্টালের কন্ট্রাক্ট শেষ হয়ে গেছে, আমরা টার্মিনেট করে দিয়েছি। কুইক রেন্টাল এখন আমার সিস্টেমে নেই বললেই চলে আরকি।
তিনি আরও বলেন, আদানি নিয়ে আমরা নিজেরা পর্যালোচনা করছি, ইনভেস্টিগেশন করছি, লয়ারের সাথে কথা বলছি। আদানির প্রাইসটা অনেক হাই। আমার গ্যাসের অভাব আছে, আমার জ্বালানির অভাব আছে, আমার বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। এই সব মিলিয়ে একটা কমপ্লেক্স সিচুয়েশন। সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য আমি আমার যতখানি চেষ্টা আমি চেষ্টা করছি।
এদিকে সরকার বলছে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় সেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে এই পথে অর্থনৈতিক চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সেবার মানোন্নয়নের মতো চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে প্রথম ছয় মাসের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, কয়েকটা বেসিক জিনিস নিয়ে আমরা কাজ করছি। তার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফারমার্স কার্ড। তারপরে আমাদের যে ধর্মগুরু যারা আছেন তাদের জন্য যে একটি সরকারি বেতন ভাতার বিষয় আছে সেটি একটি। এগুলো কিন্তু ১৮০ দিনের মধ্যে পড়ে। আরও বেশ কিছু খাল খনন প্রক্রিয়া আছে। গাছ লাগানো আছে। এই কাজগুলো কিন্তু আমরা করছি।
তিনি আরও বলেন, ১৮০ দিনের ভেতরে এই পজিটিভ ওয়ার্কগুলোর সাথে সাথে আমরা যেটা করছি- আমাদের যেখানে লিকেজে, অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ১৮০ দিনের ভেতরে আমাদের ইশতেহারে যা যা ছিল প্রত্যেকটাকে আমরা অ্যাড্রেস করছি।
জনগণের সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বর্তমান সরকার। কোন খাতে কি উদ্যোগ নেয়া হবে তার বিস্তারিত রূপরেখা খুব শিগগিরই জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার এই সদস্য।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানো। নাগরিক যেন কম ভোগে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই আমরা ১৮০ দিনের প্রোগ্রাম তৈরি করছি। আশা করি দুই-একদিন এর মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। তৈরি হয়ে গেলে আমরা তো সবাইকে দেব সেটা তো। আমরা আমাদের বাংলাদেশের স্বার্থকে সবচেয়ে আগে প্রায়োরিটি দেব। বাংলাদেশের জনগণ আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি। এগুলোকে রক্ষা করে যা যা করা দরকার জনগণের জন্য সেইটা আমরা করব।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত জনআস্থা অর্জনই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ১৮০ দিনের এই কর্মপরিকল্পনা তাই কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সরকারের নজর এখন সেদিকেই