আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ…
মহান আল্লাহ তায়ালার অসীম রহমত, দয়া ও মায়ার সর্বোচ্চ প্রকাশ আমরা উপলব্ধি করি পবিত্র মাহে রমজান মাসে। তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন—আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তিনি চাইলে আমাদের অন্য কোনো জীব হিসেবেও সৃষ্টি করতে পারতেন। তাই তাঁর দরবারে কৃতজ্ঞচিত্তে আমরা বলি—আলহামদুলিল্লাহ।

মানুষ হিসেবে আমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত রয়েছে। দৃষ্টি, শ্রবণ, বোধশক্তি, বিবেক, জ্ঞান—সবই তাঁর দান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই নেয়ামতের শুকরিয়া আমরা কতটুকু আদায় করি? আমরা কি তাঁর নির্দেশিত হালাল পথে চলি? আমরা কি হালাল রুজি উপার্জন করি, অন্যের হক নষ্ট করি না, সর্বদা সত্য কথা বলি?
মাহে রমজান আমাদের এই আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ। রমজান আমাদের শেখায়—আল্লাহকে ভয় করে গোপনে-প্রকাশ্যে পাপ থেকে বিরত থাকা, অন্যায় পরিহার করা এবং মানবিকতা ও ন্যায়ের পথে চলা।

মানুষ হিসেবে আমরা ভুল করি, পাপ করি, সীমালঙ্ঘন করি। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এতই দয়াশীল যে তিনি সাথে সাথে শাস্তি দেন না। বরং বান্দার তওবার জন্য অপেক্ষা করেন। দুনিয়ার আদালতে অপরাধ করলে বিচার, শর্ত, জামিন—অসংখ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আল্লাহর দরবারে খালেস নিয়তে তওবা করলে কোনো শর্ত ছাড়াই তিনি ক্ষমা করে দেন। এটাই তাঁর অসীম রহমত।
রমজান মাস এই তওবার দরজা সর্বাধিক উন্মুক্ত হওয়ার মাস। এই মাসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ডাক দেন—ফিরে আসো, ক্ষমা চাও, নিজেকে শুদ্ধ করো। যে বান্দা আন্তরিক হৃদয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে নিরাশ করেন না।
আল্লাহর মহিমা ও খোদায়িত্বের গভীরতা উপলব্ধি করতে হলে পবিত্র কাবা শরীফের দিকে তাকালেই হৃদয় কেঁপে ওঠে। সেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ বুঝতে পারে—মানুষের শক্তি সীমিত, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। তাই প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে আকাঙ্ক্ষা থাকে—জীবনে অন্তত একবার যেন কাবা শরীফ ও মদিনা মুনাওয়ারা জিয়ারতের সৌভাগ্য লাভ হয়।
আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের সবাইকে জীবনে একবার হলেও পবিত্র কাবা ও সোনার মদিনা জিয়ারতের তৌফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদের সকল বালা-মুসিবত দূর করেন, নেক আশা পূর্ণ করেন এবং এই পবিত্র মাহে রমজানে যথাযথভাবে রোজা পালন, ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার তৌফিক দান করেন।
রমজান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—আমরা আল্লাহর বান্দা, তাঁর কাছে ফিরে যাওয়াই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। তাই আসুন, এই রহমতের মাসে আমরা সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাই, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার অঙ্গীকার করি এবং সত্য, ন্যায় ও হালাল জীবনের পথে চলি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর সীমাহীন দয়ার চাদরে আবৃত রাখুন এবং ঈমান ও আমলের সাথে জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন—আমীন।
📍 প্রতি বৃহস্পতিবার দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফে বয়ান থেকে
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক — দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফ
চেয়ারম্যান — মীম শরৎ গ্রুপ