দেশব্যাপী পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন ও জনসম্পৃক্ততা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিটি শহর ও পৌরসভাকে আধুনিক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, দেশের সকল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগর এলাকায় নিয়মিত ময়লা অপসারণ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, খাল-নালা ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা এবং পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা টাস্কফোর্স গঠন, বর্জ্য পৃথকীকরণ (সোর্স সেগ্রিগেশন) এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য রিসাইক্লিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্কুল-কলেজ, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে দেশের শহরগুলোতে বর্জ্য, জলাবদ্ধতা ও বায়ুদূষণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্রগতি মূল্যায়নে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং সফল উদ্যোগগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তোলা কেবল সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
উল্লেখ্য, দেশের সব শহরকে পরিকল্পিত ও পরিবেশসম্মতভাবে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং নগর সবুজায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানা গেছে।