দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যবসায়ী সমাজে বিস্ময়ের পাশাপাশি নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এই নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতে ব্যবসাবান্ধব নীতি ও কার্যকর সংস্কারের পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন,
নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ এক বিবৃতিতে নতুন গভর্নরের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা আশা করেন—ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার কমানো, ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ব্যবসা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা—তার নেতৃত্বে দেশের আর্থিক খাত আরও গতিশীল ও স্থিতিশীল হবে।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ মনে করেন, নতুন গভর্নর যেহেতু একজন সফল উদ্যোক্তা, তাই তিনি ব্যবসায়ীদের সুখ–দুঃখ, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলো কাছ থেকে উপলব্ধি করেন। এর ফলে ব্যাংকিং নীতিনির্ধারণে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং শিল্প–বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, তারল্য সংকট এবং নীতিগত জটিলতার কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে একজন ব্যবসায়ী গভর্নরের নিয়োগ ব্যবসায়ী সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তারা আশা করেন, নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে এবং বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক পরিবেশ তৈরি হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং খাতে নীতি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যবসা–বান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে নতুন গভর্নর সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন ব্যবসায়ী সমাজের।
সবশেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ নতুন গভর্নরের সফলতা কামনা করে বলেন, “দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে তিনি দূরদর্শী নেতৃত্ব দেবেন—এটাই আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।