রমজানের পবিত্র মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের এক মহামূল্যবান সময়। দেখতে দেখতে পবিত্র রমজানের মাগফিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ দিন অতিক্রম হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে নাজাতের শেষ দশক—যে সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য মুমিনরা অধিক বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

বৃহস্পতিবার নিয়মিত বয়ান পেশকালে দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফ–এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপ–এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমতের মাধ্যমে আমাদেরকে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত সুস্থ-সবল রেখেছেন এবং ১৫টি রোজা পালন করার পাশাপাশি তারাবির নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করেছেন। এজন্য সকল মুসলমানের উচিত আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং একসাথে বলা—আমিন।
তিনি আরও বলেন, রমজানের বাকি সময়টুকু আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নাজাতের শেষ দশ দিন হলো দোয়া, ইবাদত ও আত্মসমালোচনার সময়। এ সময়ে বেশি বেশি ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও দান-সদকা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আমাদের জীবনকে পাপমুক্ত করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও অফিসে কর্মরত অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক এবং প্রবাসী মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। বিশেষ করে মা-বাবারা সন্তানের টানে এবং পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দূর-দূরান্তে যাত্রা করবেন।
তিনি সকলের জন্য দোয়া করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা যেন সবাইকে নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর তৌফিক দান করেন। যেন সবাই সুস্থ-সবল অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। আবার ঈদ শেষে যেন সবাই নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারেন—এই কামনায় সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
বয়ানে তিনি বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধ মানবতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় বহু মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা এই হামলায় নিহত হয়েছেন আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। যুদ্ধ মানে ধ্বংস, প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ মনে করেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবতার স্বার্থে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় সকল দেশকে একত্রিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
বয়ানের শেষাংশে তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ, মানুষের নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা সবাই যেন রমজানের শিক্ষা ধারণ করে মানবকল্যাণে কাজ করি, মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি—এটাই হওয়া উচিত আমাদের প্রত্যাশা।