রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ঝিলমিল হাসপাতালে ফিস্টুলা অপারেশনের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তবে চিকিৎসক দাবি করেছেন, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং পরে হঠাৎ জটিলতা দেখা দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সংলগ্ন একটি ইবনে সিনা হাসপাতালে আবু হানিফ নামে এক রোগী ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্য সার্জন ডা. আবুল খায়েরের শরণাপন্ন হন। রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, ৮৫০ টাকা ভিজিট দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইবনে সিনা হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীকে ঝিলমিল হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত অপারেশন থিয়েটার উপযুক্ত ছিল না এবং চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই আবু হানিফের মৃত্যু হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পর নিজেদের দায় এড়াতে রোগীকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (মিটফোর্ড)-এ পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গিয়েছিলেন বলে স্বজনদের দাবি।
এ বিষয়ে ডা. আবুল খায়ের বলেন, “আবু হানিফ আমার রোগী ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় ১১টা ৪৫ মিনিটে অপারেশন শেষ হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে রোগী সহ তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আমি হাসপাতাল ত্যাগ করি। রাত পৌনে দুইটার দিকে হাসপাতালের এক নার্স আমাকে ফোন করে জানান, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। পরে রাত দুইটার দিকে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। ফিস্টুলা অপারেশনের রোগীর এমন জটিলতা কেন হলো, তা আমার কাছেও বিস্ময়কর।”
ঘটনার সময় ঝিলমিল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র সরকার এবং হাসপাতালসংলগ্ন ওষুধের দোকানের মো. কালাম উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র সরকার প্রথমে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মো. কালাম কথা বলেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হলেন ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেস বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি “আমাদের কাছে অভিযোগ এলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়নাল দাবি করেন, অতীতেও হাসপাতালটি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছিল কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
প্রকাশের আগে নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ করবেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন এর বরাবর নিহত পরিবারের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।
এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিত বলেন স্বাস্থ্য ও সেবা খাতে কোন অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না সে যেই হোক । , হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনেকেরই খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না । মালিক কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দিলেও সচল রয়েছে ওষুধ ব্যবসায় কালাম এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ। সকলের সাথে কথা বলছেন।