বছরের শুরু থেকেই এবছরের ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। কোন ট্রেন্ডগুলো মানুষ গ্রহণ করবে আর কোনগুলোকে বাকেট লিস্ট থেকে বিদায় দেবে সেরকম আলোচনাও চলছে। গত বছর লন্ডন, প্যারিস, মিলান ও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শোতে ব্র্যান্ডগুলো তাদের স্প্রিং ও সামার কালেকশন প্রদর্শন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বফ্যাশনে এবার একরঙা পোশাক, ম্যাক্সিমালিস্ট ও ঝালরযুক্ত পোশাক ও এক্সেসোরিজের ব্যবহার বেশি দেখা যাবে।
একরঙা পোশাক
এবারের বসন্তে কোন রঙের পোশাক রাজত্ব করবে তা ঠাহর করা কঠিন। তবে ফ্যাশন বোদ্ধারা ধারণা করছেন এবার রাজত্ব করবে উজ্জ্বল একরঙা পোশাক। বসন্তের ফ্যাশনে ছোট ফুলের নকশা আর শান্ত প্যাস্টেল রঙ অনেকটা গুরুত্ব পায়। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড লো, ডিওর ও ফেন্ডির বিভিন্ন র্যাগম্প শোতে হলুদ, লাল ও সবুজের মতো রঙিন শেডের প্রাধান্য বেশি দেখা গেছে। কেউ কেউ একাধিক রঙ একসঙ্গে মিশিয়ে নাটকীয় লুক তৈরি করেছে। বেলজিয়ান ডিজাইনার মেরিল রোগের শোতেও নজর কেড়েছে নীল রঙের পোশাক।
স্টাইল টিপস: এই লুক অনুসরণ করতে চাইলে একটি মাত্র উজ্জ্বল রঙের স্টেটমেন্ট আইটেম বেছে নিন, যেন সেটি আলাদা করে চোখে পড়ে।
রাজত্ব করবে ম্যাক্সিমালিজম
২০২৫ সালের ট্রেন্ড ছিল কোয়ায়েট লাক্সারি—অর্থাৎ সরলতা, মার্জিত নকশা ও দীর্ঘদিন পরা যায় এমন মানসম্মত পোশাক। কিন্তু ফ্যাশন দুনিয়া এখন সেই ধারা থেকে সরে এসে প্রবেশ করছে লাউড লাক্সারির যুগে। ২০২৫ এর শেষের দিকে বিভিন্ন শোগুলোতে ম্যাক্সিমালিজম স্পষ্ট হয়েছে। বড় আকারের গাউন ও স্কার্ট, দামি কাপড় আর ভারী গয়নার ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। র্যা ম্পে সেইন্ট লরেন্টের মডেলরা পরেছিলেন কালো চামড়ার পোশাক। মিশোনি তাদের চেনা শেভরন প্রিন্টের সঙ্গে যুক্ত করেছে নজরকাড়া নেকলেস। শ্যানেল বাহারি রঙ ও টেক্সচারের পালকের ব্যবহার করেছে।
ঝালর
ফ্যাশনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটে। কিছু ট্রেন্ড বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই ঝালর লাগানো ব্যাগ বা ফ্রিঞ্জ দেওয়া স্কার্টের মতো অলংকৃত পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আর্থিক সংকটের সময়ে মানুষ সাধারণ পোশাকেও আলাদা কিছু যোগ করতে চায়। তাই নজরকাড়া ডিজাইনের ইনভেস্টমেন্ট পিসের চাহিদা বাড়ে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্র্যান্ড এইজ–এর ক্যাটওয়াকে ফ্রিঞ্জ দেওয়া পোশাকের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। বাল্মাইন এর মডেলরা বড় সুয়েড মেসেঞ্জার ব্যাগ নিয়ে হেঁটেছিল। এলে সাব ও লুই ভিঁতো –এর নিয়ন রঙের ঝালর ও ফ্রিঞ্জ দেওয়া পোশাকও ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া।
টেক্সচার
এবছরের বসন্ত ও পুরো গ্রীষ্মে টেক্সচারে অলংকরণ প্রাধান্য পাবে। কেননা বিভিন্ন রানওয়েতে দেখা গেছে অতিরঞ্জিত টেক্সচারের পোশাকের আধিক্য। এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—একে নিজের মতো করে বহন করা যায়। ডিজাইনাররা বিভিন্ন রঙ ও স্টাইলে ফ্রিল, কাপড়ের স্তর ব্যবহার করেছেন। তাই, চাইলে আপনার নিজের পোশাকেও সামান্য পরিবর্তন এনে বিভিন্ন রানওয়েতে দেখা অসমান ও বৈচিত্র্যময় লুক তৈরি করা সম্ভব।
ট্রেঞ্চ কোটের প্রত্যাবর্তন
বিশ্বফ্যাশনে ট্রেঞ্চ কোটের আবেদন রয়ে যাবে। এলে সাবের রানওয়েতে দেখা গেছে শরীরঘেঁষা এবং শক্ত করে বেল্ট বাঁধা ট্রেঞ্চ কোট। গিভেন্সি–এর ডিজাইন ছিল হালকা রঙের, যেখানে কালো বোতাম ও বেল্ট ছিল বেশ নজরকাড়া।
কর্মক্ষেত্রের পোশাক
ফ্যাশন উইকগুলোতে ম্যাক্সিমালিজম, উজ্জ্বল রঙ ও নানা টেক্সচারের মাঝেই কর্পোরেট ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্যও ছিল বিশেষ কিছু। কিছু ব্র্যান্ড নারীদের জন্য ক্লাসিক স্যুটকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে, যা ১৯৮০–এর দশক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করা হয়েছে। ডিজাইনারদের মতে বিশ্ব ফ্যাশনে শার্ট ও সোয়েটারের সঙ্গে লেয়ারিং করেও পোশাক পরার চল থাকবে।
বিবিসি অবলম্বনে…