রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির নারীদের মাঝে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিতরণ করা হবে ফ্যামিলি কার্ড। টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কার্ডের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের দারিদ্র্যের হার কমলেও অনেক পরিবারের অন্তত এক-দুই সদস্যকে মৌলিক চাহিদা পূরণে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে ২০২৫ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশের কিছু বেশি। যার সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখের মতো।
এমন প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিতের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।
পাইলটিং পর্যায়ে ১৩ জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৫টি ওয়ার্ডে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিবারের দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ এবং যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার ভাতা প্রাপ্য হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং কার্ড ফিজিক্যালি উনি বিতরণ করবেন।
পাইলট পর্যায়ে মাসিক ২৫০০ টাকা নগদ ভাতা প্রদান করা হবে। যার জন্য জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরপর মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বরাদ্দ বাড়বে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবার কাছে যাবে ক্রমান্বয়ে। আমরা হতদরিদ্র দিয়ে শুরু করছি, তারপর দরিদ্র যারা আছে, তারপর নিম্ন-মধ্যবিত্ত যারা আছে—এইভাবে ওপরের দিকে যেতে থাকবে। এবং সকল নাগরিকের কাছে এটা পৌঁছবে। সকল নারী প্রধান সংসারে তার হাতে গিয়ে পৌঁছবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে পরিবারে নারী সদস্য না থাকলে পুরুষ সদস্য এই কার্ড পাবেন কি না তা বিবেচনা করা হবে। সংসার পরিচালনার জন্য কত বড় একটা সাহস দেবে, কত বড় একটা সুযোগ সৃষ্টি করবে- এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।