ব্যালট পেপারের ভাজে ‘ধানের শীষ’- এর অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। এসময় ভোটারদের ফোন নম্বর, এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহেরও বিরোধীতা করেছে দলটি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির অবস্থান তুলে ধরেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তাঁর মতে, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম শিক্ষিত ও দরিদ্র ভোটারদের ফোন নম্বর, এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি আশঙ্কা করছে— এর মাধ্যমে জাল এনআইডি কার্ড তৈরি করে জাল ভোট হতে পারে, বিকাশ নম্বরে অর্থ প্রদান করতে পারে। এটা বেআইনি এবং অনৈতিক। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এসব কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা রাখি।’
পোস্টাল ভোটের ব্যালটের বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এই ব্যালট পেপার এমনভাবে ছাপানো হয়েছে, যেখানে প্রথম সারিতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা থাকলেও বিএনপির ধানের শীষ রাখা হয়েছে একেবারে নিচের সারিতে। ব্যালটের প্রথম সারিতে তিনটি বিশেষ দলের প্রতীক রাখার বিষয়টি দৈব ঘটনা নয়। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাখা হয়েছে।’ এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্যালট পেপারে প্রতীক অবস্থানের কারণে ১ থেকে ১০ শতাংশ ভোটের ব্যবধান হতে পারে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ত্রুটিগত কারণে ভোটের ব্যালট পেপারে পরিবর্তন এনে নতুন করে ছাপানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি— এখনো যথেষ্ট সময় আছে, দেশের ভেতরে এখনো পোস্টাল ব্যালট পেপার বিলি হয়নি। তাই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নতুন করে ব্যালট পেপার ছাপানো হোক।’
সবার জন্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অহেতুক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা নয়, এমন কেউ কেউ হয়তো দোয়া মাহফিলে বা দলীয় কোনো প্রোগ্রামে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছে, তাদেরকে শোকজ করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কিছু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘ওমানে হুমায়ন কবীর নামে এক জামায়াত কর্মীর বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পেপার নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অন্যান্য দেশেও এই বেআইনি কাজ করা হচ্ছে বলে ধারণা করছি। এসব ঘটনা উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। না হলে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পুরো ভোটের প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আমরা চাই— এবারের ভোটে জনগণের আস্থা থাকুক।’
তিনি বলেন, ‘অন্য দলের প্রধান নেতারা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের চোখের সামনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত এবং ব্যক্তিগত সফরে যেতে চেয়েছিলেন। এটা নিয়ে কিছু ব্যক্তির উদ্বেগের কারণে নির্বাচন কমিশন এই সফর বাতিল করার কথা বলেছে। আমাদের চেয়ারম্যান সেই সফর স্থগিত করেছে। কারণ, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকুক।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিশ্চুপতা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায়। সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন যেভাবে আইন প্রয়োগ করছে, সব প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তেমন আইন প্রয়োগের আহ্বান জানাই।’
বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কেবল বিএনপিই করতে পারে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে চলেছি। বহু নেতাকর্মী খুন-গুমের শিকার হয়েছে। এবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাঈল জবিউল্লাহ, সদস্য মোর্শেদ হাসান খান, ড. মাহদী আমিন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম, আনোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।