শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) ডায়রিয়া হাসপাতালে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২৫ জন আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ বিষয় হলো, ভর্তি হওয়া এসব রোগীর প্রায় ৮৫ শতাংশই শিশু।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১২ দিনে মোট দুই হাজার ৬৯২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোগীর সংখ্যা এতই বেশি যে, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় সাতজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। মূলত ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতার উপসর্গ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও শরীয়তপুর জেলা থেকে শিশুদের নিয়ে এই হাসপাতালে ছুটে আসছেন।
চিকিৎসকদের মতে, শীত মৌসুমে শিশুদের মধ্যে ‘রোটা ভাইরাসের’ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।
কুমিল্লা থেকে আসা অভিভাবক নাছরিন আক্তার বলেন, ‘শীতের শুরু থেকেই আমার শিশুর ডায়রিয়া দেখা দেয়। হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে আসায় চিকিৎসকরা সঠিক চিকিৎসা দিতে পেরেছেন, এখন সন্তান অনেকটাই সুস্থ।
তানজিনা আক্তার নামের আরেকজন বলেন, এলাকায় অনেক শিশুই এই রোগে ভুগছে। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের যত্নে আমার সন্তান দ্রুত সেরে উঠেছে।
আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের প্রধান ডা. মো. আল ফজল খান অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কোনো শিশু এক ঘণ্টায় তিনবার বা তার বেশি বমি করে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়, জ্বর বা খিঁচুনি দেখা দেয় অথবা প্রস্রাব অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।’ তিনি আরও জানান, বছরের এই সময়ে রোটা ভাইরাসের ঝুঁকি থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শিশুদের বাড়তি যত্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ পানি পান করানো এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে এই জটিলতা এড়ানো সম্ভব।