1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
মব সন্ত্রাসের শিকার বহু শিক্ষক, ৪ জনের স্ট্রোক - JTV
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাবতলী হাটে সন্তোষজনক পরিবেশ, নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি: মীর শাহে আলম র‌্যাবের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান চুক্তির সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে যুক্ত করলেন ট্রাম্প লাব্বাইক লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত ময়দান তীব্র গরম ও বজ্রঝড়ের শঙ্কা, হুমকিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাকের চাপ, বাড়ছে যানজট ও ভোগান্তি আজ পবিত্র হজ কমলাপুর রেল স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়, পাঁচ ট্রেন বিলম্বে যাত্রী ভোগান্তি শিবগঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তা ও মেধাবীদের সংবর্ধনায় প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল থেকে বেরিয়েও ঈদে বাড়ি ফেরা হয় না সবার বিতর্কের মুখে ট্রাম্পের নাগরিক তালিকা, গড়াল আদালতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্দেশ ‘বিদ্রোহী’ কবির জন্মদিন উদ্‌যাপন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী

মব সন্ত্রাসের শিকার বহু শিক্ষক, ৪ জনের স্ট্রোক

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ বার পঠিত

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন মাসেই নজিরবিহীন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে শারীরিক ও মানসিক আঘাতে এ পর্যন্ত ছয়জন শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরো পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত ও অসুস্থ হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। কেউ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ছাড়া স্ট্রোক করেন অসংখ্য শিক্ষক।

তেমনই একজন হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত যুবক। তারা প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পদত্যাগের চাপ দিতে থাকে। এ সময় চেয়ারেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

মবের ঘটনাটি সদর্পে নিজের ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছিল মব বাহিনীর নেতা ফয়সাল মিয়া।

 

অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষক রেজাউল করিমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ভয়ের কারণে স্ট্রোক করেছেন ওই শিক্ষক।

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মবকারী ওই দলের নেতা ফয়সাল স্থানীয় রুস্তম আলীর ছেলে।

শিক্ষক আবুল কাসেম জানান, চাপ সইতে না পেরে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েন যে এখনো সুস্থ হতে পারেননি। ঘটনার পর পর মাধবপুর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ওই এলাকার মোড়লদের হাত করে ফয়সালের অভিভাবকরা ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির শুরু করেন বলে জানা গেছে।

এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আয়োজনে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেওয়া হয়।

একই ঘটনা দেখা গেছে কিশোরগঞ্জেও। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক মব শাসনের কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হন। কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের তার বিরুদ্ধে উসকে দেয় একটি চক্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ঘটনায় প্রকাশ্যে ইন্ধন দিয়েছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বাচ্চু, খণ্ডকালীন শিক্ষক জুনায়েদ হোসেন জুয়েল এবং স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মেহাদি হাসান শুভ। নেপথ্যে ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জামায়াতের সমর্থক। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য এহসানুল ইসলাম দিপুসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক সুযোগ বুঝে ছাত্রদের উসকে দেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সেদিন শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে আন্দোলনে নামানো হয় এবং বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে যুক্ত করে। পরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে যান এবং সেখানে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ ১৯টি অভিযোগ আনা হয় এবং ৩ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে ২৯ অক্টোবর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।

প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের কথা বিবেচনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেননি। তার দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়েই এই মব তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি আংশিক সুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে সীমিত দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মবের শিকার হন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে কোদালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন মৃধা। এ বিষয়ে তখনকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মূলত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র ছিল না। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে। তারপর দেখা যায় যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন বর্তমানে চাকরিতে রয়েছেন। একাধিকবার জানতে চাইলেও তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এখন আমি আর কোনো কথা বলতে চাই না।’

এই শিক্ষকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, সে সময় পদত্যাগে বাধ্য করায় তিনি চাপের মুখে স্ট্রোক করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV