একই ঘটনা দেখা গেছে কিশোরগঞ্জেও। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক মব শাসনের কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হন। কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের তার বিরুদ্ধে উসকে দেয় একটি চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ঘটনায় প্রকাশ্যে ইন্ধন দিয়েছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বাচ্চু, খণ্ডকালীন শিক্ষক জুনায়েদ হোসেন জুয়েল এবং স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মেহাদি হাসান শুভ। নেপথ্যে ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জামায়াতের সমর্থক। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য এহসানুল ইসলাম দিপুসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক সুযোগ বুঝে ছাত্রদের উসকে দেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সেদিন শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে আন্দোলনে নামানো হয় এবং বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে যুক্ত করে। পরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে যান এবং সেখানে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ ১৯টি অভিযোগ আনা হয় এবং ৩ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে ২৯ অক্টোবর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।
প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের কথা বিবেচনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেননি। তার দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়েই এই মব তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি আংশিক সুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে সীমিত দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মবের শিকার হন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে কোদালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন মৃধা। এ বিষয়ে তখনকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মূলত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র ছিল না। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে। তারপর দেখা যায় যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন বর্তমানে চাকরিতে রয়েছেন। একাধিকবার জানতে চাইলেও তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এখন আমি আর কোনো কথা বলতে চাই না।’
এই শিক্ষকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, সে সময় পদত্যাগে বাধ্য করায় তিনি চাপের মুখে স্ট্রোক করেন।








