বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন একটি অনলাইন আইপি-টিভি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে (JTV)-কে অনলাইন আইপি-টিভি হিসেবে নিবন্ধনের অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল গণমাধ্যমে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলো মীম শরৎ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মীম শরৎ মিডিয়া কর্পোরেশন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টিভি-১ শাখা থেকে ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে,ষ। নির্ধারিত JTV-কে অনলাইন আইপি-টিভি হিসেবে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেবা টেলিভিশনের
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। জেটিভির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মীম শরৎ মিডিয়া কর্পোরেশন এবং এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় অবস্থিত।
নিবন্ধনের সঙ্গে যেসব শর্ত মানতে হবে
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অনলাইন আইপি-টিভি পরিচালনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ এবং জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭ (সংশোধিত-২০২০) অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনবিরোধী কোনো বিষয়বস্তু প্রচার করা যাবে না।
রাষ্ট্র, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সংস্কৃতি ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় কিংবা সহিংসতা, বিদ্বেষ ও উগ্রবাদকে উৎসাহিত করে—এমন কোনো অনুষ্ঠান বা প্রচারণা পরিচালনা করা যাবে না।
শিশু ও নারীবান্ধব সম্প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
কপিরাইট আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত নিবন্ধন ফি ও বার্ষিক নবায়ন ফি সময়মতো পরিশোধ করতে হবে।
সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ টেলিভিশন, তথ্য অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু JTV-এর
সরকারি নিবন্ধন লাভের মাধ্যমে খুব শিগ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে JTV (জেবা টেলিভিশন)। এ উপলক্ষে মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেবা টেলিভিশনের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, আধুনিক উপস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্টের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দর্শকদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন টেলিভিশন হিসেবে JTV-কে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “জেবা টেলিভিশন শুধু একটি সংবাদমাধ্যম নয়; এটি মানুষের কথা বলার একটি দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম। দেশের সংস্কৃতি, ইসলামিক মূল্যবোধ, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “‘বিশ্বাসে আস্থায় অবিচল’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করেই JTV পথচলা শুরু করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাই একটি গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই বিশ্বাসকে আস্থায় রূপান্তরিত করে দেশের মানুষের পাশে থাকতে এবং নিরপেক্ষ, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে আমরা কাজ করবো।”
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ জানান, সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি JTV-তে থাকবে সমসাময়িক টকশো, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, নাটক, চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ইসলামিক অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক আয়োজন এবং যুগোপযোগী নানা অনুষ্ঠানমালা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানসম্মত কনটেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল টেলিভিশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি আরও বলেন, “মীম শরৎ গ্রুপের মিডিয়া জগতে এটি একটি নতুন মাইলফলক। আমরা দেশের গণমাধ্যমকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক মূল্যবোধ বিশ্বদরবারে তুলে ধরতেও JTV গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা
JTV-এর নিবন্ধন লাভ উপলক্ষে মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ দেশের সকল দর্শক, শ্রোতা, শুভানুধ্যায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “দেশবাসীর ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা নিয়ে JTV এগিয়ে যেতে চায়। সত্য, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাইকে পাশে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”