বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণই সফলতার চাবিকাঠি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
৬৬
বার পঠিত
পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমেই টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ফলে নগর ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় নগর ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মিশ্র প্রভাব রয়েছে। নাগরিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়িয়ে আধুনিক নগর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এআই-নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কার্যকর তদারকি ও সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে যেমন মানুষ ট্রাফিক আইন মেনে চলে, তেমনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়হীনতার সংকট দূর করতে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ নগর উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে দুটি ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ (Waste-to-Energy) প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায় থেকে ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. মো. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।