ঈদযাত্রার প্রথম দিন ঢাকা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শিমুলিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সরাসরি খাদে যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় প্রাণ হারান পাঁচ জন। এদিন ১০ জেলায় সড়কে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বাম সাইড থেকে গাড়িটা পুরো ডান সাইডে চলে গেছে। একটা ইজিবাইক ছিল সঙ্গে, ভ্যান ছিল ইজিবাইকের পেছনে। আগে ইজিবাইকটা মেরেছে, পরে ভ্যানটা। ভ্যানটা চাকার নিচেই ছিল। ট্রাক যেটা মেরেছে, ইজিবাইক আর ভ্যান দুইটাকেই ডলে দিয়েছে।’
পরদিন ফরিদপুরে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জনসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। সারা দেশে ঝরে ১০ প্রাণ।
স্থানীয়রা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটার বামে অবশ্যই কিছু ছিল, যার কারণে ওই বিআরটিসির গাড়ির ডান সাইড আর ওর মুখোমুখি। গাড়ির স্পিড বেশি ছিল। তারপর ওর যে লাইন দিয়ে যাওয়ার কথা, সে লাইন দিয়ে না গিয়ে, উনি আরেকটা গাড়ি দেখে এপারে ক্রস করেছে।
প্রতিবছর ঈদযাত্রায় একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয় পথে। গত ঈদুল ফিতরে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৫১ জন। আহতের সংখ্যা হাজারের বেশি। ঈদযাত্রায় সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকার মধ্যে অন্যতম ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রোড।

যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে প্রতিবছরই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আটটি, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাঁচটি করে স্থান বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকায় ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশপথের বেশ কয়েকটি জায়গা দুর্ঘটনাপ্রবণ এর তালিকায়।
কুমিল্লার হাইওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘মালিক শ্রমিককে বলেছি যে, তারা যেন আনফিট গাড়ি রাস্তায় বের না করে। আর আমরা যারা যাত্রী তারাও যেন সচেতনভাবে গাড়িতে চলাচল করি।’
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি আর ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। আর তাই ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে নতুন করে ভাবছে সরকার।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, মহাসড়কের আশপাশে গরুর হাট বাজার কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। বসতে দেয়া হবে না। আর যেসব জায়গায় ত্রুটি আছে, বলছেন রিপেয়ার দরকার। নিয়মিত রিপেয়ার করছে, চলমান থাকবে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩২২ জন। সে বছর ঈদুল আজহায় সড়কে ঝরে ৩৯০ জনের প্রাণ।