লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
দেশটি ঘোষণা দিয়ে বলেছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা একটি ‘অপরিহার্য শর্ত’।
একইসঙ্গে, এই মুহূর্তে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা চলছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমরা জোরালোভাবে বলতে চাই, যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে যেকোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা একটি আবশ্যকীয় শর্ত।”
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা উপেক্ষা করে ইসরায়েল সম্প্রতি তাদের সামরিক আগ্রাসন ও হামলা আরো জোরদার করেছে। বাঘাই জানান, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনও চুক্তি হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বা এর খুঁটিনাটি নিয়ে পর্দার আড়ালে কোনও আলোচনা চলছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, “পারমাণবিক ফাইলের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও আলোচনা বা দরকষাকষি হচ্ছে না। পরমাণু বিষয়ে কখন কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা ইরান ভালো করেই জানে। এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র এবং প্রধান অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ বন্ধ করা।”
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, “আজ (সোমবার) সকালেও মার্কিন বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।”
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তার প্রতিটি পদক্ষেপই আমরা গ্রহণ করবো।”
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী এগুলোকে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ইরানও একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা