1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
কেন ঝুঁকির পথ বেছে নিচ্ছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব: সিএনএনের বিশ্লেষণ - JTV
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২০ ইউনিট, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত, অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম পরাজিত শক্তির কালো টাকা দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী হুতিদের ‘বাড়াবাড়ি’, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী: রিজভী সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে এই কার্ড নেবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ১০ বছর পর ১৯ অক্টোবর খুলছে ওসমানী উদ্যান; উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কেন ঝুঁকির পথ বেছে নিচ্ছেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৪০ বার পঠিত

ইরানের নতুন নেতৃত্ব দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখন আর শুধু প্রক্সি গোষ্ঠী, গোপন অভিযান কিংবা সীমিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহ সরাসরি প্রভাবিত করতে সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে এ পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব মূলত পরোক্ষ সংঘাত, গোয়েন্দা অভিযান এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এবার তেহরান সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের এই আক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তেহরান জানিয়ে দিতে চেয়েছে, তার ‘লাল রেখা’ এখন শুধু নিজস্ব ভূখণ্ডের নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলাও সরাসরি ইরানি প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও তেহরান বারবার অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই যুদ্ধবিরতির চেতনা ক্ষুণ্ন করছে। ইরানের দাবি, পরোক্ষ আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েল প্রায় সাড়ে তিন হাজার হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। পাশাপাশি তেহরান সতর্ক করে দেয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে এবং পারস্য উপসাগরের বাইরেও সংঘাত বিস্তৃত করতে প্রস্তুত।

সপ্তাহের শুরুতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা নতুন কৌশলের ইঙ্গিত
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানও সরাসরি ইরানি প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, “কাগজে-কলমে বিদ্যমান কিন্তু বাস্তবে বারবার লঙ্ঘিত যুদ্ধবিরতির সমীকরণ আমরা পাল্টে দিয়েছি। আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা না দেখা পর্যন্ত ইরানের প্রতিক্রিয়াও একই থাকবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাইও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি তেহরানের দীর্ঘদিনের সতর্ক ও প্রতিক্রিয়াশীল নীতির পরিবর্তে আরও সক্রিয় ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের ইঙ্গিত বহন করছে। নতুন নেতৃত্ব এখন কেবল প্রতিরোধ বা ধৈর্যের ওপর নির্ভর না করে সামরিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাবকে ব্যবহার করে বাস্তবতা বদলাতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ফাটল কাজে লাগানোর চেষ্টা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান থেকে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব এবং ইসরায়েলকেও শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিতে হবে।

ইরানের হামলার পর ট্রাম্প দ্রুত নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, ইরান বর্তমানে এমন একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে, যেখানে ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতাকে সমর্থনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে।

‘কৌশলগত ধৈর্য’ থেকে ‘ঝুঁকি নেওয়ার’ পথে তেহরান
বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পরও তৎকালীন নেতৃত্ব সীমিত প্রতিক্রিয়ার পথ বেছে নিয়েছিল। একইভাবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবেও ইরান তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সেই হিসাব-নিকাশ বদলাতে শুরু করেছে।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি বলেন, “দশকের পর দশক পর এই প্রথম কোনও আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও ইচ্ছা প্রদর্শন করছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, কূটনীতির মাধ্যমে যা অর্জন সম্ভব নয়, তা কখনও কখনও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও অর্জন করা যেতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সূত্র: সিএনএন

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV