1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেলেন দেশের উদ্যোক্তারা - JTV
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২০ ইউনিট, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত, অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম পরাজিত শক্তির কালো টাকা দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী হুতিদের ‘বাড়াবাড়ি’, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী: রিজভী সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে এই কার্ড নেবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ১০ বছর পর ১৯ অক্টোবর খুলছে ওসমানী উদ্যান; উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেলেন দেশের উদ্যোক্তারা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১২৪ বার পঠিত

বাংলাদেশের রফতানি খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা এখন আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশ এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কী পরিবর্তন এলো? 👇

এতদিন বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে হলে রফতানিকারকদের বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং ও রফতানি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। নতুন নির্দেশনার ফলে আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে পণ্য প্রদর্শন, অর্ডার গ্রহণ, অর্থ আদায় এবং পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম সহজ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি ভোক্তারা সরাসরি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।

৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রফতানিতে বিশেষ সুবিধা 👇

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পণ্য রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সীমার মধ্যে ক্ষুদ্র মূল্যের রফতানি চালান দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাবে।

বিশেষ করে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত চালানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রফতানি মূল্য অগ্রিম পরিশোধিত হলে প্রচলিত ইএক্সপি ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে ছোট উদ্যোক্তারা জটিল কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন।

ক্রেতার নামেই শিপিং ডকুমেন্ট 👇

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বিদেশি ক্রেতার নামে সরাসরি পরিবহন বা শিপিং ডকুমেন্ট ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অনলাইন বাণিজ্যে প্রচলিত ‘ডাইরেক্ট-টু-কনজিউমার’ মডেল বাস্তবায়ন সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুবিধা আন্তর্জাতিক ই-কমার্স ব্যবসার অন্যতম প্রধান শর্ত। এতদিন এই প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় বাধা ছিল।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ 👇

দেশে বর্তমানে হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, গৃহসজ্জা সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল, পোশাক, জুয়েলারি, নকশিকাঁথা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল পণ্য তৈরি করছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাদের অনেকেই দেশীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

নতুন নীতিমালার ফলে একজন উদ্যোক্তা এখন ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজের পণ্য প্রদর্শন করতে পারবেন এবং বিশ্বের যেকোনও প্রান্তের ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণ করতে পারবেন।

বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার বাধ্যবাধকতা 👇

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, রফতানি আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আনতে হবে।

একই সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে (এডি) প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিফান্ডের সুযোগও থাকছে 👇

অনলাইন বাণিজ্যে পণ্য ফেরত বা মানগত অভিযোগ একটি সাধারণ বিষয়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও সহজ করেছে।

রফতানিকারকের ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে সেখান থেকে রিফান্ড করা যাবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তার টাকার হিসাব থেকেও অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম ফি পরিশোধে সহজীকরণ 👇

আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ব্যবসা পরিচালনার জন্য অনেক সময় সাবস্ক্রিপশন, সদস্যপদ বা সেবা ফি দিতে হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, উদ্যোক্তারা এসব ফি বৈধভাবে বিদেশে পাঠাতে পারবেন।

ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত এসব খাতে অর্থ প্রেরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা? 👇

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা এখন সরাসরি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এর ফলে বিক্রয়, আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”

তিনি বলেন, “রফতানি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষুদ্র মূল্যের চালান রফতানি এবং বিদেশি ক্রেতার নামে সরাসরি শিপিং ডকুমেন্ট ইস্যুর সুবিধা উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।”

রুবেলের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত করবে।

রফতানি খাতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত 👇

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সেই বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য এবং সৃজনশীল শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা এর মাধ্যমে বড় সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে রফতানি আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য ও রফতানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের লাখো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রি করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারবেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV