“উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রয়োজন বুঝে উপযোগী আর্থিক সমাধান দেয় ইউসিবি ব্যাংক”—সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে ব্যাংকটির এ দাবিকে “বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক” ও “সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা” বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জের এইচডি ফ্লাওয়ার মিল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এইচডি ফ্লাওয়ার মিলের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, ইউসিবি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার কথা বললেও বাস্তবে অনেক উদ্যোক্তাকে তারা নানা জটিলতা, অতিরিক্ত চার্জ, অস্বচ্ছ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো সহযোগিতা না করার মাধ্যমে আর্থিকভাবে বিপদে ফেলছে। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের এইচডি ফ্লাওয়ার মিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, সাধারণত ব্যাংক থেকে নেওয়া ব্যবসায়িক ঋণ এক বছরের জন্য মঞ্জুর করা হয় এবং মেয়াদ শেষে নিয়ম অনুযায়ী তা নবায়ন করা হয়। কিন্তু এইচডি ফ্লাওয়ার মিলের ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা সময়মতো নবায়ন করা হয়নি। বরং দুই মাস, তিন মাস করে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। এ কারণে ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “আমরা বারবার চিঠি দিয়েছি, ঋণ নবায়ন ও এক্সটেনশনের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অথচ পরে আমাদের ওপরই ঋণ সমন্বয়ের চাপ তৈরি করা হয়। এতে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।”
এইচডি ফ্লাওয়ার মিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউসিবি ব্যাংক শুরুতে তাদের ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিসি লিমিট প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ নবায়ন বা সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তখন ব্যাংক সহযোগিতা না করে উল্টো চাপ সৃষ্টি করে। তাদের দাবি, “আমরা নিজেরা এই ব্যাংকের সঙ্গে যেতে চাইনি। তারাই আমাদেরকে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করে ব্যাংকিং সম্পর্কে যুক্ত করে। পরে প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা না করে আমাদেরকে বিপদে ফেলা হয়েছে।”

আরও অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অর্থ কেটে নিয়ে ঋণ সমন্বয় করেছে। অভিযোগকারীর দাবি, যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল, সেখান থেকেও সফটওয়্যারের মাধ্যমে অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ ও বেশি সুদের বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এইচডি ফ্লাওয়ার মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংকিংয়ের নামে বাস্তবে অনেক ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “ইউসিবি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রয়োজন বুঝে আর্থিক সমাধান দেয়—এ দাবি আমাদের অভিজ্ঞতায় সত্য নয়। বরং আমাদের মনে হয়েছে, এটি উদ্যোক্তাদের জন্য এক ধরনের আর্থিক ফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

অভিযোগকারী আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দফায় দফায় লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়ের নয়; ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও বিষয়টি অবগত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে এইচডি ফ্লাওয়ার মিল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, উদ্যোক্তাদের নামে ব্যাংকগুলো যে ধরনের প্রচারণা চালায়, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে—এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, “একদিকে গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে ইউসিবি উদ্যোক্তাদের পাশে আছে, অন্যদিকে বাস্তবে আমাদের মতো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়েও কোনো সঠিক প্রতিকার পাচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তদন্ত হওয়া দরকার।”

এইচডি ফ্লাওয়ার মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণ নবায়ন, চার্জ, সুদ, হিসাব থেকে টাকা কর্তন এবং গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্তের দাবি জানান তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

