1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
গ্রেটেস্ট ‘গোলকিপার শো’ অন দ্য আর্থ - JTV
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আলী নির্বাচিত পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কাজ করবে বিডি ক্লিন: মীর শাহে আলম মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে ইরানের হামলা আর্জেন্টিনা-স্পেনের মুখোমুখি পরিসংখ্যান কী, সবশেষ দেখায় জিতেছিল কোন দল? শেষের ম্যাজিকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণই সফলতার চাবিকাঠি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিশুদের অংশগ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে আবহাওয়া নিয়ে স্বস্তিতে ইংল্যান্ড প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে দুরন্ত স্পেন স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন, মীর শাহে আলম বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কে কার মুখোমুখি, কোথায় কখন খেলা করব কাজ, গড়বো দেশ-সবার জন্য বাংলাদেশ: তারেক রহমান

গ্রেটেস্ট ‘গোলকিপার শো’ অন দ্য আর্থ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত

টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের ষষ্ঠ শট। স্টেডিয়ামের হাজারো কণ্ঠ যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ। বলের পেছনে হোসে কানাল, দুই হাত মেলে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার। শট এবং নয়্যার বিভ্রান্ত! আর তাতেই জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। তবে আসল কাজটা করে দিয়েছেন ওরলান্ডো গিল। প্যারাগুয়ের তরুণ গোলকিপার জার্মানির দুটি শট আটকে দিয়ে সতীর্থদের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। এর আগে পুরো ম্যাচে জার্মান মেশিনের সামনে দেখিয়েছেন বীরত্ব। তাতে প্যারাগুয়ে লিখল ইতিহাস, যার প্রথম লাইনটি লিখে দিয়েছেন একজন গোলকিপার।
এই বিশ্বকাপে গোলের উৎসব যেমন হয়েছে, তেমনি সমান তালে চলছে গোলকিপারদের রাজত্ব। আক্রমণভাগের নায়কদের আলো বারবার কেড়ে নিচ্ছেন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নিঃশব্দ যোদ্ধারা। কেউ ক্লিনশিটে, কেউ অসম্ভব সেভে, কেউ আবার টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে হয়ে উঠছেন একটি জাতির ত্রাতা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই শুরু হয়েছিল সেই গল্প। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম ছিল কেপ ভার্দের ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ গোলকিপার একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হতাশ করেছেন। স্পেনের মতো আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য সব সেভ করে ক্লিনশিট রেখে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক উপহার দেন তিনি। সেই ম্যাচে ৭টি সেভ করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন ভোজিনহা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্বের সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতিও অভিজ্ঞ এই প্রহরী।

ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ আবার প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ‘দ্য ওয়াল’ বলা হয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হন তিনি। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের বারবার হতাশ করে ইরানকে এনে দেন মূল্যবান এক পয়েন্ট। মিসরের বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে দলকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইরান বিদায় নিলেও বেইরানভান্দের লড়াকু মানসিকতা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আর কুরাসাওয়ের এলয় রুম? ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপটির প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের পেছনে সবচেয়ে বড় নাম তিনিই। ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক ম্যাচেই করেন ১৫টি সেভ, ৯০ মিনিটের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড স্পর্শ করে। প্রতিটি সেভ ছিল একটি করে গোলের সমান মূল্যবান। বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের সামনে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ যত তীব্র হয়েছে, রুম ততটাই দৃঢ় হয়েছেন।

নকআউট পর্বে এসে যেন গোলকিপারদের নাটকীয়তা আরো বেড়ে গেছে। জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের অরলান্ডো গিল শুধু টাইব্রেকারেই নায়ক হননি। পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন অদম্য। অতিরিক্ত সময়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ, তারপর টাইব্রেকারে দুই শট ঠেকিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্যারাগুয়ের জয়ে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন একজন মানুষ—ওরলান্ডো গিল।
মরক্কোর ইয়াসিন বোনোও যেন বড় ম্যাচের জন্যই জন্মেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ক্রেসেন্সিও সামারভিলের শট বাঁ হাত বাড়িয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। সেই সেভের পর ইসমাইল সাইবারির সফল শটে মরক্কো পৌঁছে যায় শেষ ষোলোয়। ২০২২ বিশ্বকাপের নায়ক বোনো ২০২৬ সালেও আবার মনে করিয়ে দিলেন, টাইব্রেকারের মঞ্চে তিনি প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। চাপের মুহূর্তে তার স্নায়ু ইস্পাতের মতো দৃঢ়।

শুধু যারা জিতেছেন তারাই নন, হেরে গিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন কয়েকজন গোলকিপার। নেদারল্যান্ডসের বার্ট ভেরব্রুগেন মরক্কোর বিপক্ষে অন্তত পাঁচটি অসাধারণ সেভ করেন, যার দুটি ছিল প্রায় অলৌকিক। টাইব্রেকারেও দুটি শট রুখেছিলেন তিনি। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার সেই বীরত্ব হারিয়ে যায় পরাজয়ের আড়ালে।
একইভাবে জাপানের জিওন সুজুকিও ছিলেন নিজের দলের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন সেভ করে সেলেসাওদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছিলেন। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো কিংবা মার্টিনেল্লিদের আক্রমণের ঢেউ বারবার ফিরে গেছে তার গ্লাভসে। শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় ঠেকাতে না পারলেও ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি পর্যন্ত সুজুকির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে ভোলেননি।

একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল স্ট্রাইকারদের মঞ্চ। পেলে, রোনালদো, ক্লোসা, মেসিদের গোলগাথাই ছিল আলোচনার কেন্দ্র। কিন্তু এবার দৃশ্যপট বদলেছে। ফরোয়ার্ডদের প্রতিটি হাসির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন একজন করে গোলকিপার, যিনি নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে রুখে দিচ্ছেন স্বপ্নভঙ্গের আঘাত। এই বিশ্বকাপে তাই গোলকিপাররা আর শুধু শেষ প্রহরী নন। তারা ম্যাচের চিত্রনাট্যকার, নাটকের নায়ক, কখনো আবার জাতির রক্ষাকর্তা। তাদের গ্লাভসে জমা হচ্ছে লক্ষ মানুষের আশা, তাদের ডাইভে বদলে যাচ্ছে একটি দেশের ভাগ্য। তারা কখনো মানবপ্রাচীর, কখনো শেষ আশ্রয়, কখনো আবার পুরো জাতির নায়ক।

গোলের উল্লাসে যেমন স্টেডিয়াম কাঁপে, তেমনি আজকাল সমান গর্জন ওঠে একটি সেভেও। ২০২৬ বিশ্বকাপ নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—ফুটবল শুধু গোলদাতাদের খেলা নয়, অনেক সময় ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি দাঁড়িয়ে থাকে গোলবারের ঠিক নিচেই।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV