স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারী এবং ৪৩ লাখ কৃষক কার্ডধারীকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, তৃণমূল পর্যায়ে খাল খনন, শিক্ষা বিস্তারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পল্লী উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতকে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং সংগঠিত গ্রামীণ সমাজ ও উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।
পল্লী উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এসব নারীকে সমিতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আত্মনির্ভরশীল ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, একই অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের সংগঠিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তব্যের শুরুতে মীর শাহে আলম বলেন, ছোটবেলায় তিনি যে উন্নত ও সংগঠিত গ্রাম দেখেছেন, সেই গ্রামই আবার ফিরিয়ে আনতে চান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে গ্রাম সরকার, সমিতিভিত্তিক উন্নয়ন এবং পল্লী ব্যবস্থাপনার সূচনা হয়েছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা আরও এগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাই বর্তমান সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি গ্রাম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কার্যকর সমিতি থাকবে, সুশৃঙ্খল পল্লী ব্যবস্থাপনা থাকবে এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠবে। গ্রামীণ উন্নয়নে আমরা একটি নতুন সবুজ বিপ্লব ঘটাতে চাই।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ্য পল্লী উন্নয়নের সব খাতকে তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমবায়ী এবং সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।