স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি পল্লী উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি করেছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এর আগে সকালে রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-কে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি পল্লী উন্নয়নের শক্ত ভিত রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিআরডিবির হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক। পরে বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা তাঁদের উদ্যোক্তা জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সরকারের সহায়তায় কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমবায়ী ও সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।