তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ তখনই জনগণের কল্যাণে কার্যকর হবে, যখন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশে পরিণত হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে যদি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও আলোচনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। জনগণের কল্যাণে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কার্যকর নেতৃত্ব এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। তাই অর্থনৈতিক নীতির সফল বাস্তবায়নও রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে। অতিরিক্ত সময় চাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার সম্পন্ন করে দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে। এই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি সংস্কার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছর কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য রপ্তানির পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিবিদরা গবেষণার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করবেন, আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সুপারিশগুলোকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে পরিণত করতে হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।