1. admin@jtv.news : admin :
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব - JTV
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের ইফতারে ব্যবসায়ী-রাজনীতিক-প্রশাসনের মিলনমেলা রমজানের মাগফিরাত পেরিয়ে নাজাতের পথে: নিরাপদ ঈদযাত্রা ও বিশ্বশান্তির জন্য দোয়ার আহ্বান, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইরানের মিত্ররা কোথায়? কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে প্রণয় ভার্মার বৈঠক রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ এমপি মিলনের ইরানের হামলায় আহত দুই প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না, ঘোষণা ইরানের ঈদে ছুটি টানা ৭ দিন শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ৬ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ২১০ ফ্লাইট বাতিল, জানাল শাহজালাল বিমানবন্দর পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদাবাজদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণভোট নিয়ে হাইকোর্টের রুল: জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ কী?

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২১ বার পঠিত

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন অসহনীয় চাঁদাবাজি ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ব্যবসায়ীদের একই হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি, এমনকি সরকারি দপ্তরে একদিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি।

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব।

গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথাগুলো বলেন তিনি। ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি সালিম সোলায়মান প্রমুখ।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন সরকার এমন একসময় ক্ষমতায় এসেছে, যখন অর্থনীতি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানি ঠেকেছে। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার সামান্যতম বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এখন কারখানায় চাঁদা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং আওয়ামী দুঃশাসন পার হলেও তা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে উন্নতি করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন। কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে।

চাঁদাবাজরা এসে বলে, তারা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদের চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। তিনি আরও বলেন, কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয়। অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। জনগণ ও ব্যবসায়ী মহল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি।

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চেষ্টা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাত থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও একটি অপ্রকাশিত চুক্তির (এনডিএ) নামে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ববিরোধী একটি চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ মওকুফে সম্মত হলেও এটা এমন নয় যে সম্পূর্ণ শুল্ক মওকুফ করে দিয়েছে। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্য সমানভাবে লাভজনক হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের (পলিসি রেট) কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ শ্রেণীকরণের সীমা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে আর্থিক খাতে অনাকাক্সিক্ষত অস্থিরতা তৈরি করেছে। তাছাড়া শিল্পকারখানায় চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের পুনরুজ্জীবনে ৪টি পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো হলো-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঋণের সুদের হারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV