নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে এবং পণ্য পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। ফলে আমদানি-রপ্তানি নির্ভর দেশগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কার্গো বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জরুরি পণ্য, বিশেষ করে ওষুধ, কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রপ্তানি ও আমদানিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে, বাড়বে খাদ্য পণ্য, নিত্যপণ্যের দাম।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে নতুন করে এই সংঘাত পরিস্থিতি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ খোঁজার পরামর্শ দেন।
সবশেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র পথ। যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না; বরং তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকট বাড়িয়ে তোলে।”