বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর পরিচালক, মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মীম শরৎ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অপহরন এবং পরবর্তী ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার হলেও আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে অপহরণ হওয়া ব্যবসায়ী ও মামলার বাদী সোহাগ ও তার পরিবারদের প্রাণ মাসের হুমকি ও মামলা উঠিয়ে নেওয়া সহ চাঁদার দাবি করছে।

এই ঘটনায় সকল আসামিকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আসামিকে আত্মসমর্পণৎকরার সময় দেয়া হলে, আসামিরা আত্মসমর্পণ না করলে তার পরবর্তীতে সকল আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে যায়। এই ঘটনায় খুব শীঘ্রই আসামিরা ধরা পড়বে বলে জানান, মামলার মাদীপক্ষের আইনজীবী ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
এই ঘটনায় অপহরণ মামলার ভিকটিম ও মামলার বাদী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন,
নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাসের অনুপযোগী শহর হয়ে যাচ্ছে এ শহরে গত পরশুদিনও একটি কিডন্যাপের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

মীম শরৎ গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মামলার অন্যতম আসামি আলামিন ওরফে জিতু বিভিন্ন ফোনের সিম কার্ডের মাধ্যমে আমাদের মাননীয় এমডি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ সাহেবকে হত্যার হুমকি, ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। বিভিন্ন নামে এ নামে চাঁদা দাবি করছে, ব্ল্যাকমেলিং এর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমরা ফতুল্লা থানায় আমরা একটি জিডি করেছি। এবং হত্যার হুমকি দেয়ায় আমরা আরেকটি জিডি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এই অপহরণ, আসামিরা জামিনে এসে বের হয়ে ভিকটিমকে কান্না সের হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১ জুন ব্যবসায়ী সোহাগকে অপহরন করা হয়। পরের দিন ২ জুন তিনি অপহরন অবস্থা থেকে উদ্ধার হন। এই ঘটনায় ৩ জুন একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামীদের গ্রেফতার করা হলে ৩০ ডিসেম্বর আসামীরা জামিন লাভ করে। জামিন লাভ করার পর অপরাধীরা আবারও ব্যবসায়ী সোহাগকে হুমকি দেয়। ফলে গত ১২ জানুয়ারী তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করেন। পরে পুলিশ দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করে।
আসামিরা হলেন, তার নিজ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত ড্রাইভার কবির হালদার (৩৯) আলামিন ওরফে (জিতু) লতিফ সিদ্দিকী রতন (৩৩),সাব্বির আহমেদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল (৩১) ইমরান হোসেন মোহন, এবং আলামিন।
উল্লেখ্য জিডি ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোসাঃ তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১২(০৬)২৫, ধারা–৩৬৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।
মামলার তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে ২ নম্বর আসামি মোঃ সাকিব হোসেন, ৩ নম্বর আসামি মোঃ কবির হালদার, ৪ নম্বর আসামি মোঃ ছাহাদ এবং ৫ নম্বর আসামি ইমরান হোসেন মোহনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ১ নম্বর আসামি আল আমিন ওরফে জিতুকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকার করেন।