সম্প্রতি ঢাকার একটি অভিজাত ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের প্রথম মাইক্রো ড্রামা সিরিজ ‘সিলভার সাদিয়া’র ভার্টিক্যাল স্ক্রিনিং।
শনিবার (৯ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিরিজটি প্রযোজনা করেছে মায়ের দোয়া স্টুডিওস; এটি অ্যাডকম লিমিটেডের ৩৬০ ডিগ্রি ফুল-সার্ভিস কনটেন্ট-ড্রিভেন প্রজেক্ট, গ্লো এন্ড লাভলী নিবেদিত, মায়ের দোয়া স্টুডিওসের এর প্রযোজনায় এবং মিরাজ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত ‘সিলভার সাদিয়া’ বাংলাদেশের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ভার্টিক্যাল স্টোরিটেলিংয়ের এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। মোবাইল-ফার্স্ট দর্শকদের কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই ফরম্যাটটি নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট কনজিউমের অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, অ্যালেন শুভ্র, ফারজানা ছবি এবং কামরুজ্জামান তপু। এছাড়াও একটি বিশেষ চরিত্রে ছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্যা ছোট ভাই। ভার্টিক্যাল স্ক্রিনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির পেশাজীবী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
অনুষ্ঠান শেষে সিরিজটি সিনেমাওয়ালা’র ফেইসবুক চ্যানেলে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‘সিলভার সাদিয়া’ গল্পে উঠে এসেছে এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাদ্রাসা পড়ুয়া এক তরুণীর জীবন, যার ভেতরে গোপনে বেড়ে উঠেছিল গেমিংয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা। মায়ের নীরব সমর্থনে সে ইউটিউবে লাইভস্ট্রিমিং শুরু করে এবং ধীরে ধীরে নিজের একটি দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করে। কিন্তু সেই গোপন সত্য একসময় বাবা সামনে প্রকাশ পেলে বাবা আর মেয়ে হয়ে উঠে মুখোমুখি, যেখানে পরিবার, দূরত্ব এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প একসাথে জড়িয়ে যায়।
১৫ পর্বের এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য তিন মিনিট। ছোট পরিসরে গল্প বলার এই নতুন প্রয়াস বর্তমান দর্শকের অভ্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে এক সাহসী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
প্রযোজক নাজিম ফারহান চৌধুরী বলেন, ‘বড় পর্দা থেকে হাতের মুঠোয়- গল্প বলার ধরন বদলে গেছে। মায়ের দোয়া স্টুডিওসের মাধ্যমে আমরা ভার্টিক্যাল স্টোরিটেলিংয়ের এক নতুন জগতে পা রেখেছি, যেখানে সাহস, আবেগ আর নতুন ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।’
সহ-প্রযোজক আনোয়ারুল কাদির টয় বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করেছি, এই ধরনের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। শুরু থেকেই আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল যে দর্শক এই গল্পের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পাবেন।’
সহ-প্রযোজক ও সিরিজটির ক্রিয়েটর পুলক অনিল বলেন, ‘একেবারে নতুন একটি ধারণা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে। সীমাবদ্ধতা ছিল, ভুলত্রুটিও ছিল, কিন্তু এই যাত্রা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো কাজ করতে চাই।’
সিরিজটির ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার আদনান-আল-রাজীব বলেন, ‘এটি ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর এবং ব্যতিক্রমী একটি কাজ। এই ফরম্যাটের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে, এবং ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও অনেক গল্প জন্ম নিতে পারে।’
মায়ের দোয়া স্টুডিওস আয়োজিত এই স্ক্রিনিং শুধু একটি সিরিজের উদ্বোধনই নয়, বরং বাংলাদেশের মাইক্রো-ড্রামা ধারার আনুষ্ঠানিক যাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।