স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে ইশতেহারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘পিপলস ম্যান্ডেট: সিটিজেন ডায়ালগ অন ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ইশতেহার বাস্তবায়নের সংকট ও সম্ভাবনা: নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম তিন মাসেই নির্বাচনি ইশতেহারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে দেশজুড়ে নতুন করে খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
রাজধানীর প্রশাসনিক জটিলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে সাধারণত সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দায়ী করা হয়। তবে বাস্তবে রাজধানীর সব কার্যক্রম স্থানীয় সরকারের একক এখতিয়ারে নেই। নাগরিক সেবার মান ও গতি বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক সিটি গভার্নেন্স ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
নগরায়ণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, শহরের নদ-নদী ও খাল-বিল দূষণমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে প্রতিটি বাসাবাড়িতে নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক-এর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কাঠামোয় রূপ দিতে চীন-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।