1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
বৈশ্বিক সংকটেও কেন কমছে স্বর্ণের দাম - JTV
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার: রিজভী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী শিশু হাসপাতালের কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ২০ ইউনিট, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত, অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম পরাজিত শক্তির কালো টাকা দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী হুতিদের ‘বাড়াবাড়ি’, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

বৈশ্বিক সংকটেও কেন কমছে স্বর্ণের দাম

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১২১ বার পঠিত

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হয় এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে এর দাম বেড়ে যায়। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইল মিলে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী চলা যুদ্ধে স্বর্ণের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১.১ গ্রাম) স্বর্ণের দাম যেখানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে উঠেছিল, তা গত শুক্রবার কমে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাবে না-এমন শঙ্কার কারণেই মূলত স্বর্ণের দাম চাপের মুখে পড়েছে। এমনকি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংকগুলো সুদের হার আরো বাড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নেপথ্যে হরমুজ প্রণালির সংকট

বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা। যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই সমুদ্রপথ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান এই ধমনীটি বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ৪.২ শতাংশ রয়েছে। একই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারও স্থিতিশীল থাকায় অবিলম্বে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে। স্বর্ণ যদিও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে, তবে উচ্চ সুদের হার এর মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণকে একটি লভ্যাংশহীন সম্পদ ধরা হয়, কারণ নিজস্ব মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া এটি থেকে অতিরিক্ত কোনো আয় আসে না।

আর্থিক বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘অপশনস্প্রেডার্স ডটকম’-এর প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল আল জাজিরাকে বলেন, ‘সম্পদের দিক থেকে স্বর্ণ প্রায় আসল অর্থের কাছাকাছি। এটি কোনো ডিভিডেন্ড সংগ্রহ করে না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত এর কোনো বাড়তি মূল্যও পাওয়া যায় না। মানুষ মূলত এর মূল্যবৃদ্ধির আশাতেই স্বর্ণ কেনে।’

ডলারের শক্তি বনাম স্বর্ণের বাজার

সুদের হারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সরাসরি স্বর্ণের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কার্ডওয়েল জানান, সুদের হার উচ্চ থাকলে মানুষ ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ তার আকর্ষণ হারায়। ইরান সংঘাত ডলারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আর স্বর্ণ যেহেতু ডলারে মূল্যায়িত হয়, তাই ডলারের শক্তি বাড়লে স্বর্ণের দাম কমে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কলিন প্লাম আল জাজিরাকে এক ইমেইলে বলেন, ‘যখন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন স্বর্ণ চাপের মুখে পড়ে, আবার ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। এই মুহূর্তে ডলার শক্তিশালী, যার প্রভাব স্বর্ণ টের পাচ্ছে।’

তবে উভয়ের ভবিষ্যৎ মূল্য এখনো অনিশ্চিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান যুদ্ধের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নাটকীয়ভাবে কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে ‘সিএমই ফেডওয়াচ’ টুলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশের বেশি।

কলিন প্লামের মতে, ‘সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতি হলো দোলনার দুই দিক, আর স্বর্ণ এর ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছে। ২০২৬ সালের জটিলতা হলো দুটি ব্যবস্থাপনাই একসঙ্গে ঘটছে, এবং বর্তমানে সুদের হারের দিকটিই জয়ী হচ্ছে। এই কারণেই স্বর্ণ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।’

চুক্তির খবরে সামান্য স্বস্তি

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির খবর আসার পর স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি দামে বন্ধ হয়েছে। কার্ডওয়েল বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার খবর স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, কারণ তখন ধরে নেওয়া হবে যে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসবে।’

তবে এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর হতে এখনও বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে।

কার্ডওয়েল আরো বলেন, বর্তমানে স্বর্ণ যে স্তরে রয়েছে, তা একটি সহায়তাকর স্থান হতে পারে। তবে যুদ্ধ শেষ হলেও আরো অনেক বিষয় থাকবে যা স্বর্ণের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV