দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার—তিন মাসে আক্রান্ত ৬৭৬ শিশু, বেড়েছে প্রায় ৭৫ গুণ
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল মাত্র ৯ জন, আর ২০২৪ সালে ছিল ৬৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের আটটি বিভাগেই হামের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে—২৪৫ জন। এরপর রাজশাহী ১৩৭, চট্টগ্রাম ৯৩, ময়মনসিংহ ৮০ জন। বরিশাল ও খুলনায় ৫১ জন করে, সিলেটে ১৩ জন এবং রংপুরে ৬ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি, বুকের দুধ কম পান এবং কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়াই সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ। পাশাপাশি ভাইরাসের ধরন পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি নিয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের হাম টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪৫ জন (৩৬.২৪ শতাংশ) আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এরপর রাজশাহীতে ১৩৭ জন (২০.২৬ শতাংশ), চট্টগ্রামে ৯৩ জন (১৩.৭৫ শতাংশ), ময়মনসিংহে ৮০ জন (১১.৮৩ শতাংশ), বরিশাল ও খুলনায় ৫১ জন করে (৭.৫৪ শতাংশ), সিলেটে ১৩ জন (১.৯২ শতাংশ) এবং রংপুরে ছয়জন (০.৮৮ শতাংশ) হাম আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

৯ মাসের বদলে ৬ মাস থেকে হামের টিকা : পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা টিকা পাবে।
গতকাল সকালে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ।
তিনি বলেন, হামের নিয়মিত টিকাদান চলছে।