বিশেষ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সচিবালয় : ৪ বিভাগে ২০ তম এবং ৪ বিভাগে ১৮ তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিবগণ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জনাব সরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়ায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার পদটি শূন্য হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন (৬৫৬৯),
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডঃ আ ন ম বজলুর রশিদ (৬৫১১)এবং রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জনাব শহিদুল ইসলাম {৬৪৯৫)১৮ তম এডমিন ব্যাচের।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে ২০২৬ এর ২৭ জানুয়ারিতে ২০ তম ব্যাচের ১০০ জন অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি হয়।
মাত্র কিছুদিন আগেই পদায়ন হওয়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জনাব আবদুল্লাহ মো: আবদুল্লাহ হারুন (৬৬৯৩),
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার জনাব খলিল আহমেদ (৬৭১৮),
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ মশিউর রহমান (৬৬৭২)
এবং
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জনাব এস এম হুমায়ুন কবির সরকার (৬৭৫১) এ চারজন বিভাগীয় কমিশনার ই ২০ তম ব্যাচের।
২০২৪ সালের ২২ এপ্রিলে ১৮তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির পর ১৮ তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চাকরির সময়সীমা ২৬ মাস চলছে।
সঙ্গত কারণেই এ ব্যাচের অফিসারগণ যেকোন অধিদপ্তরের ডিজি, চেয়ারম্যান অথবা সচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রত্যাশা করছেন।
যে চারজন ১৮ তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা প্রত্যেকেই সচিব পদে পদোন্নতির দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
আজ বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এর পদোন্নতির কারণে বাকি তিন বিভাগীয় কমিশনারও অবিলম্বে পদোন্নতি দ্বারা বিভাগীয় কমিশনার থেকে বিভিন্ন সাচিবিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সূত্র জানাচ্ছে।
শূন্য হওয়া এ সকল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে বিএনপি সরকার তাদের মত ও পথের পছন্দের আমলাদেরকে বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করাবে এটাই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিতে হবে।
দীর্ঘ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের উন্নয়নের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় বিভাগীয় কমিশনারগণ মেধা ভিত্তিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় সাপেক্ষে দায়িত্ব পালন করাটা অতীব জরুরী।
সেক্ষেত্রেই ছাত্র রাজনীতিতে সংযুক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড বা পারিবারিকভাবে বিএনপি পরিবার সংশ্লিষ্টতা বিভাগীয় কমিশনার পদোন্নতির জন্য নিয়মাবলীর প্রধান নিয়ামক ।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ২০ তম ব্যাচ এর অফিসারগণ পাইপ লাইনে আছেন।
আর এক্ষেত্রে দায়িত্ব নেবার মতো সার্বিক বিবেচনায় আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে যে নামগুলি সামনে এসেছে তারা হচ্ছেন,
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্বরত মো: আকনুর রহমান, পিএইচ.ডি.(৬৬৩১),
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ও সাবেক ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার রাজা মো: আব্দুল হাই(৬৬৭৬),
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব রত
ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ (৬৬৮৫),
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্বরত মো: মনিরুজ্জামান মিঞা (৬৭০৩),
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্বরত দায়িত্বরত জনাব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া(৬৭৬১)
এবং
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ দায়িত্বরত অতিরিক্ত সচিব জনাব আবু সালেহ মো: মহিউদ্দিন খাঁ, এনডিসি (৬৭৮৩) অন্যতম।
এ সকল আলোচিত ও দায়িত্বশীল অফিসারদের মধ্য থেকে সবচাইতে যে নামটি বেশি আলোচনায় এসেছে তিনি হচ্ছেন,
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মনিরুজ্জামান মিঞার নাম সর্বাগ্রে শোনা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যে কোন সময়ই পদায়ন বিষয়ক সরকারি আদেশ জারি হতে পারে।
জনাব মনিরুজ্জামান মিঞা আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি বঞ্চিতসহ নানাভাবে নিগৃহীত এর শিকার হয়েছিলেন।
তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন কে সুসংঘবদ্ধ রাখতে যেভাবে যুক্তপৎভাবে সময় দিয়েছেন সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মনিরুজ্জামান মিঞাকেই এগিয়ে রাখছেন বিএনপি সরকার।
২১ তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি হবার পূর্ব পর্যন্ত এবং ১৮ তম ব্যাচের বাকি তিন বিভাগীয় কমিশনারের পদোন্নতি অথবা পদায়নের ভিত্তিতে
বাকি তিনটি বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ২০ তম ব্যাচেরই রয়েছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের মে মাসে চাকরিতে আসা ২১ তম ব্যাচ এর ১৭৫ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে সিংহভাগ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাবেন এবং তাদের মধ্য থেকে একাধিক অতিরিক্ত সচিব বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন হবে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে।