বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, উৎপাদন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর কিছু বিধান পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিকেএমইএ’র মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সংশোধিত অধ্যাদেশের কিছু ধারা বাস্তব প্রয়োগে শিল্প কারখানার জন্য জটিলতা ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কিছু কিছু বিধানে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, যা শিল্পখাতের জন্য উদ্বেগজনক। তাই এসব ধারা বাস্তবতার আলোকে সংশোধন করা জরুরি বলে মনে করে বিকেএমইএ।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত শ্রম আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি। এ লক্ষ্যে শিল্প উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে মাননীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহের বাস্তবসম্মত সংশোধনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিকেএমইএ আশা প্রকাশ করেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এতে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে যাবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ।
শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।