উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন এমপি বলেন, যত বাধাই আসুক, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাবে পরিণত করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যেই সরকার যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা ক্যালেন্ডারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

সম্প্রতি নিজের একটি বক্তব্যের শব্দচয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বক্তব্যের খণ্ডিত ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। সমালোচনা থাকবে, তবে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন থেমে থাকবে না। একই সঙ্গে দেশে অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রির মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬-এর প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিলটি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে ধন্যবাদ জানাই। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল অনুসরণ করে নওগাঁ, চাঁদপুরসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনও পর্যায়ক্রমে যুগোপযোগী করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ নওগাঁ আজ উচ্চশিক্ষার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা এ অঞ্চলের শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সরকারি চাকরি অর্জন নয়; বরং দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা। শিক্ষা হতে হবে কর্মমুখী, গবেষণাভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন।
জেনজি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জেনজি আন্দোলনের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। জেনজি চেতনা মানে মেধা ও শৃঙ্খলার জয়। তবে সেই চেতনা কখনোই পরীক্ষায় অনিয়ম, নকল বা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এখন প্রয়োজন বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কলকাতার দাদারা যখন আপনার প্রশংসা করবে, তখন বুঝবেন আমি ভুল পথে আছি। আর যখন তারা বদনাম করবে, তখন বুঝবেন আমরা সঠিক পথে আছি।”
তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনায় বগুড়া-নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশের ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানউল্লাহ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
এসময় নওগাঁ জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী।
উল্লেখ্য, প্রথম বছরে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ৮০টি আম্রপালি গাছের চারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।